নয়াদিল্লি: ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের আবহে এ বার ব্যালট পেপারে ভোটের ফলাফলকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিভিন্ন রাজ্যের বিধান পরিষদের (এমএলসি) নির্বাচনে কংগ্রেসের ফলাফল তুলে ধরে বিরোধী দলকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। কংগ্রেস কতগুলি আসন জিতেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসির ইমোজির মাধ্যমে খোঁচা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটক—এই চার রাজ্যে বিধান পরিষদের মোট 28টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। ভোটগ্রহণের পর বুধবার, 28 অক্টোবর ফলাফল সামনে আসতে শুরু করে। এই নির্বাচনগুলিতে শিক্ষক ও স্নাতক কেন্দ্রের আসনগুলিতে ভোট হয়েছে। কংগ্রেস মোট 12টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু সেই 12টি আসনের কোনওটিতেই জয় পায়নি হাতশিবির।
এই ফলাফলকে হাতিয়ার করেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। দলের বক্তব্য, ব্যালট পেপারে ভোট হলেও কংগ্রেসের পক্ষে জনসমর্থন আদায় করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী দাবি করেছেন, 28টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হলেও কংগ্রেসের ঝুলিতে কোনও আসন আসেনি। তাঁর বক্তব্য, ইভিএম হোক বা ব্যালট পেপার—রাহুল গান্ধীর রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করছেন ভোটারেরা। বিজেপির এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
বিজেপি নেতা সুধাংশু ত্রিবেদীও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যালট পেপারে ভোট হলেও কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, কয়েকটি নির্বাচনের ফল দিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করা যায় না।
কর্নাটকে বিধান পরিষদের চারটি আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি-জেডিএস জোট।
বিজেপি তিনটি আসনে জিতেছে, অন্য আসনটি পেয়েছে জেডিএস। বেঙ্গালুরু শিক্ষক কেন্দ্রের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন জেডিএস প্রার্থী এ পি রঙ্গনাথ। তিনি কংগ্রেসের বিদায়ী বিধান পরিষদ সদস্য পুত্তান্নাকে 908 ভোটে হারিয়েছেন। রঙ্গনাথ পেয়েছেন 10,810টি ভোট। পুত্তান্নার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা 9,902।
উত্তরপ্রদেশেও কয়েকটি আসনে বিজেপি জয় পেয়েছে। অন্য দিকে, বারাণসী শিক্ষক এবং আগ্রা-আলিগড় শিক্ষক কেন্দ্রের আসনে জয়ী হয়েছে সমাজবাদী পার্টি। বিহারে কংগ্রেস পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিয়েও কোনও আসনে জিততে পারেনি। সেখানে পটনা শিক্ষক কেন্দ্রের আসন পেয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল। তিরহুত শিক্ষক কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে বিজেপি প্রার্থী। দরভাঙা শিক্ষক কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধান পরিষদ সদস্য মদনমোহন ঝাকে হারিয়েছেন জন সুরাজের সুরেশ প্রসাদ রাই।
মহারাষ্ট্রেও বিধান পরিষদের পাঁচটি আসনের নির্বাচনে কংগ্রেস তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। সেখানেও কোনও আসনে জয় পায়নি দল। অন্য দিকে, শরদ পওয়ারের এনসিপি-র প্রার্থীরা কয়েকটি কেন্দ্রে ভালো ফল করেছেন। কয়েকটি আসনে গণনা ও ফলাফল নিয়ে চূড়ান্ত পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে সময় লেগেছে।
তবে এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর বাড়লেও, বিধান পরিষদের নির্বাচন এবং লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচন এক নয়। শিক্ষক ও স্নাতক কেন্দ্রের ভোটারদের পরিধি নির্দিষ্ট। তাই এই নির্বাচনের ফলকে সরাসরি গোটা দেশের জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তা সত্ত্বেও কংগ্রেসের শূন্য হাতে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিজেপি যে রাজনৈতিক প্রচার শুরু করেছে, তা স্পষ্ট। ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা যুক্তি হিসেবে ব্যালট পেপারে ভোটের ফলকে সামনে আনছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী মোদীর কটাক্ষ সেই রাজনৈতিক সংঘাতকেই আরও উসকে দিল।




