কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-৪ হারের পর আরও অস্বস্তিতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস। ডার্বি হারের ধাক্কা সামলানোর আগেই ম্যাচ-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে গেল সবুজ-মেরুন শিবির। নির্ধারিত প্রেস মিটে দলের কোচ কিংবা কোনও প্রতিনিধিই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যায় মোহনবাগান দল।
ডার্বিতে এমন বড় ব্যবধানে হার যে কোনও দলের কাছেই যন্ত্রণার। কিন্তু সেই হারের পর সাংবাদিকদের সামনে না আসার সিদ্ধান্তই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ডুরান্ড কাপের মতো ঐতিহ্যশালী প্রতিযোগিতার ফাইনালে দুই প্রধানের লড়াইয়ে ম্যাচ-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে বরাবরই থাকে বাড়তি আগ্রহ। সেখানে কোচ বা দলের কোনও প্রতিনিধির অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
রবিবাসরীয় যুবভারতীতে গোটা ম্যাচজুড়েই ইস্টবেঙ্গলের দাপটের সামনে কার্যত অসহায় দেখিয়েছে পালতোলা নৌকোকে। একের পর এক আক্রমণে লাল-হলুদ রক্ষণকে চাপে ফেলার বদলে উল্টে ৪ গোল হজম করতে হয়েছে সবুজ-মেরুনকে। এডমুন্ড লালরিনডিকার হ্যাটট্রিকে শেষ পর্যন্ত ১-৪ ব্যবধানে হেরে হাতছাড়া হয়েছে ট্রফি। সেই হতাশার জেরেই কি সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত? মোহনবাগানের তরফে এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ফলে মাঠের পর এ বার মাঠের বাইরেও বিতর্কে মোহনবাগান। সমাজ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, বড় ম্যাচে বড় হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াই কি দায়িত্বের অংশ নয়? ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্লাবের এই সিদ্ধান্ত। এর আগে ১৯৭৫ সালের আইএফএ শিল্ডের ফাইনালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ৫ গোল হজম করতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। এ দিনের হার যেন ফের উস্কে দিয়েছে সেই ভয়াবহ স্মৃতি। আর তার পরই বয়কট করা হল সাংবাদিক সম্মেলন। ডার্বির মঞ্চে ১-৪ হারের ক্ষত এমনিতেই গভীর, তার ওপর এই ঘটনা সেই ক্ষত আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন অনেকে।