কলকাতা: বাংলায় রাজনৈতিক সমীকরণে যুব প্রজন্মের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জেন-জি ভোটারদের মনোভাব, তাঁদের প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে এবার গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে সেই বিষয়েই বিশেষ নজর দিচ্ছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। সূত্রের খবর, সোমবার রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ‘যুব ভারত সংলাপ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম বাংলায় এসেছেন নীতীন নবীন। রবিবার দিনভর রাজ্য সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় বাড়ানো এবং আসন্ন পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
সোমবারের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চাতেও সাংগঠনিক পরিবর্তন হয়েছে। ইন্দ্রনীল খাঁর পরিবর্তে যুব মোর্চার নতুন সভাপতি হয়েছেন আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই ‘যুব ভারত সংলাপ’-এ যোগ দেওয়ার কথা নীতীন নবীনের। সেখানে রাজনৈতিকভাবে সচেতন তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তাঁদের ভাবনা ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করা হবে বলে সূত্রের খবর।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জেন-জি ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই নতুন করে ভাবনাচিন্তা করছে। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে নিজেদের মত প্রকাশ করে। ফলে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করাকে সাংগঠনিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব।
এর আগে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তরুণদের ভিন্ন রাজনৈতিক মত বা সমালোচনাকে দূরে সরিয়ে না রেখে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি বলেছিলেন। এবার একই ধরনের যোগাযোগের পথে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এগোচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
নীতীন নবীনের বঙ্গ সফরের প্রথম দিনেই সংগঠন নিয়ে একাধিক বার্তা এসেছে। দলের বিধায়কদের আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি সংগঠনের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং স্থানীয় স্তরে দলীয় কাঠামো আরও মজবুত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আসন্ন পুরভোটকে সামনে রেখে সংগঠনের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নেতৃত্বকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এখন নজর সোমবারের ‘যুব ভারত সংলাপ’-এর দিকে। তরুণ ভোটারদের সঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সরাসরি কথোপকথন থেকে কী বার্তা উঠে আসে, এবং রাজ্য বিজেপি ভবিষ্যতে যুব সংগঠনকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়,সেদিকেই রাজনৈতিক মহলের নজর।
