মালিক ফেরার! তার নামে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। আর তাই বিপদের মুখে লিলি।কে এই লিলি? কেনই বা সে বিপদের মুখে? আসুন, জেনে নেওয়া যাক - বীরভূমের বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিলাসবহুল বাড়ি সিল হওয়ার পর বিপাকে পড়েছে তাঁর তিন বছরের বিদেশি পোষ্য কুকুর 'লিলি'।
চারতলা প্রাসাদ, সুইমিং পুল, নিজস্ব থিয়েটার আর এসি ঘরে রাজকীয় পরিচর্যায় অভ্যস্ত সারমেয়টিকে এখন দিন কাটাতে হচ্ছে এক পরিচারিকার সাধারণ এসিবিহীন ঘরে। পুলিশি তল্লাশির পর সুভাষপল্লির প্রাসাদসম বাড়িটি সিল করে বাড়ির পরিচারক এবং পরিচারিকাদের বের করে দেওয়া হয়। সে সময়ই দীর্ঘদিনের এক পরিচারিকা লিলিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান।
ইউরোপের মাল্টা দ্বীপপুঞ্জের শান্ত ও সুন্দর 'মাল্টিস' প্রজাতির এই কুকুর লালন-পালন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বাজারদর প্রায় দেড় লক্ষ টাকার বেশি হওয়া এই বিশেষ প্রজাতির সারমেয়টির জন্য প্রয়োজন দামি খাবার এবং শ্যাম্পু-সাবানের নিয়মিত চর্চা। পরিচারিকার পক্ষে এক কামরার ঘরে সেই বিলাসিতা বা সঠিক পরিচর্যা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
সামাজিক মাধ্যমে অবুঝ প্রাণীটির এই করুণ পরিস্থিতির ছবি সামনে আসতেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন পশুপ্রেমীরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি,টুলু মণ্ডলের অপরাধের দায় একটি নির্দোষ অবোলা প্রাণীর ওপর চাপানো ঠিক নয়। আইন তার নিজের পথে চলুক,কিন্তু কুকুরটির সঠিক পরিচর্যা জরুরি।ইতিমধ্যেই কয়েকজন পশুপ্রেমী লিলিকে দত্তক নেওয়ার বা তার পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
পুলিশ প্রশাসনও আইনি নিয়ম মেনে লিলিকে অন্য কোনো উপযুক্ত ও নিরাপদ আশ্রয়ে হস্তান্তর করা যায় কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। এখন এটাই দেখার অদূর ভবিষ্যতে লিলি'র জীবন কোন পথে বাঁক নেয়!