নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে শিল্পায়ন ঘিরে নতুন করে আশার কথা শোনা গেল শিল্প সম্মেলন থেকে। বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির দাবি, সম্মেলনের প্রথম দিনেই পাণ্ডবেশ্বর এলাকায় এক হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। তাঁর আরও দাবি, শিল্পপতিদের আগ্রহ বজায় থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছুঁতে পারে। তবে এগুলি আপাতত বিনিয়োগের প্রস্তাব বা আগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; চূড়ান্ত বিনিয়োগ, প্রকল্পের সংখ্যা কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পাণ্ডবেশ্বরে শিল্পের পরিবেশ তৈরি এবং বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যেই এই শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পাণ্ডবেশ্বরে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের হাব গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা সামনে এসেছিল। স্থানীয় শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরাও সেই সময় নতুন শিল্প স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানিয়েছিলেন, এলাকার শিল্প সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আরও উদ্যোগপতিকে পাণ্ডবেশ্বরে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিওয়ারির দাবি, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে বড় শিল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশেষ করে পাণ্ডবেশ্বরের ECL-এর পরিত্যক্ত খনি এলাকার জমি ভবিষ্যতে শিল্পের কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়েও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। খনি-নির্ভর এই অঞ্চলে শিল্পের বৈচিত্র্য বাড়াতে এমন জমি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
শিল্প সম্মেলনে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনীয়তা। নতুন ধরনের খনি প্রযুক্তি এবং আধুনিক শিল্প ব্যবস্থার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে বলে সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। তিওয়ারির দাবি, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পাণ্ডবেশ্বরে একাধিক শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহু স্থানীয় যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কতগুলি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
পাণ্ডবেশ্বরের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যও উঠে এসেছে সম্মেলনে। বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি অতীতে এলাকায় ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, সেই পরিবেশের কারণে শিল্পপতিরা বিনিয়োগে উৎসাহ পেতেন না। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে শিল্প স্থাপনের জন্য আলাদা পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং পরিশ্রম ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই বক্তব্য অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন; অতীতের অভিযোগগুলির বিষয়ে আলাদা করে কোনও আদালতের রায় বা সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
রাজ্যের শিল্পনীতি নিয়েও একই সময়ে বড় পরিবর্তনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হতে পারে। শিল্পপতিদের প্রশাসনিক সমস্যার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বরও ঘোষণা করা হয়েছে।
ফলে পাণ্ডবেশ্বরের এই শিল্প সম্মেলনের ঘোষণাকে বৃহত্তর শিল্পায়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন মূল প্রশ্ন সম্মেলনে ঘোষিত এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব কতটা দ্রুত বাস্তব প্রকল্পে পরিণত হয় এবং আগামী এক সপ্তাহে সত্যিই বিনিয়োগের অঙ্ক পাঁচ হাজার কোটিতে পৌঁছয় কি না। বিনিয়োগের চূড়ান্ত চুক্তি, জমি, অনুমোদন এবং প্রকল্পের কাজ শুরু হলেই পাণ্ডবেশ্বরের শিল্প-পরিবর্তনের ছবিটি আরও স্পষ্ট হবে।
