পানিহাটি: রাজ্যস্তরের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘিরে পানিহাটিতে তৈরি হল রাজনৈতিক বিতর্ক। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিধায়ক রত্না দেবনাথকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এমনই অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্বামী শেখর দেবনাথ। প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, বিধায়ককে কার্যত উপেক্ষা করে নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কলকাতা উত্তর শহরতলী ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যস্তরের ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। পানিহাটি স্পোর্টিং মাঠে শুরু হয়েছে সেই প্রতিযোগিতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদক শমীক ভট্টাচার্য, পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ এবং দলের একাধিক নেতা-কর্মী।
অনুষ্ঠান চলাকালীনই বিধায়িকার স্বামী শেখর দেবনাথ তাঁর ক্ষোভের কথা প্রকাশ্যে জানান। তাঁর অভিযোগ, পানিহাটির বিধায়ককে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “পানিহাটির বিধায়ককে অপমানিত করা হচ্ছে। এমএলএ-কে পাত্তাই দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে রীতিমতো অপমানিত করা হচ্ছে। এখানে নিজেদের ইচ্ছামতো প্রোগ্রাম করা হচ্ছে।”
তাঁর এই বক্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, স্থানীয় বিধায়ক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর স্বামীকে এমন অভিযোগ করতে হল? দলের অভ্যন্তরে কোনও সমন্বয়ের সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে সরাসরি বিতর্কে যেতে চাননি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁকে তাঁর দলের নেতৃত্বের কাছ থেকে অপমানিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। রত্না দেবনাথ জানান, “না, অপমানিত হইনি। এই বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না।”
বিধায়িকার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। একদিকে তাঁর স্বামী প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে বিধায়ক নিজেই অপমানিত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। ফলে অনুষ্ঠানে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
ঘটনা নিয়ে দলের অন্যান্য নেতাদের কাছ থেকেও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি দলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ।
তিন দিনের এই ফুটবল টুর্নামেন্টে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দল অংশ নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে আগ্রহ ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের মধ্যেই স্থানীয় বিধায়ককে ঘিরে ওঠা অভিযোগের জেরে তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এখন দেখার, দলের অভ্যন্তরে এই অভিযোগ নিয়ে কোনও আলোচনা হয় কি না। একইসঙ্গে বিধায়িকার স্বামীর বক্তব্য এবং বিধায়কের নিজের অবস্থানের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা অব্যাহত রয়েছে।
