প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে কেন্দ্রের পদক্ষেপের মধ্যেই কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪ সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হওয়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে প্রশ্নফাঁস চক্র ও ‘পেপার মাফিয়া’দের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে প্রশ্নফাঁসের মতো সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কার, দ্রুত পদক্ষেপ এবং রাজ্যগুলির পরামর্শের ভিত্তিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মোদি জানান, পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রযুক্তির আরও বেশি ব্যবহার প্রয়োজন। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই স্তরেই পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যারা প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় কারচুপির মাধ্যমে দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ঠেকাতে ২০২৪ সালে মূল আইনটি আনা হয়েছিল। সেই আইনের উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা, সংগঠিত চক্র বা অন্যান্য পক্ষের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। সংসদের নথি অনুযায়ী, আইনটির অন্যতম লক্ষ্য হল সরকারি নিয়োগ ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা।
বুধবার লোকসভায় সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময় রাজনৈতিক উত্তেজনাও দেখা যায়। বিরোধীরা বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করেন এবং দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করেন। এরপর বিরোধীদের একাংশ ওয়াকআউট করে। শেষ পর্যন্ত ধ্বনি ভোটে বিলটি লোকসভায় পাশ হয়। সংসদের সরকারি ওয়েবসাইটে বিলগুলির অগ্রগতি ও সংসদীয় কার্যক্রম নথিভুক্ত রয়েছে।
এর পরেই ইনস্টাগ্রামে ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, পরীক্ষায় অনিয়ম করে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বার্তাও দেন তিনি।
সরকারের এই পদক্ষেপে মূল লক্ষ্য, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মেধা ও পরিশ্রমের ভিত্তিতে পরীক্ষার ফল নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রীও সেই বার্তাই সামনে রেখে প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।