গ্লাসগোয় চলতি কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের সাফল্যের মুকুটে জুড়ল আরও দুটি সোনার পালক। শনিবার প্রথমে মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগের ফাইনালে কানাডার স্কারলেট ডেলগাডোকে হারিয়ে সোনা জেতেন ভারতীয় বক্সার প্রীতি পাওয়ার। চলতি কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিংয়ে এটিই প্রথম সোনা ভারতের। তবে এর পরই মেয়েদের ৫৭ কেজি বিভাগেও সোনা জিতে নিয়েছেন জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া।
ফাইনালের শুরুটা সহজ ছিল না প্রীতির জন্য। প্রথম রাউন্ডে ডেলগাডো কয়েকটি আক্রমণাত্মক ঘুষি মারলেও প্রীতি কোনও তাড়াহুড়ো করেননি। ধৈর্য ধরে নিজের ছন্দ খুঁজে নিয়ে নিখুঁত পাঞ্চ এবং কার্যকর বাঁ-হাতি হুকের সাহায্যে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। বিচারকেরা সর্বসম্মতভাবে প্রথম রাউন্ড ৫-০ ব্যবধানে ভারতীয় বক্সারের পক্ষেই দেন।
দ্বিতীয় রাউন্ডে আরও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন প্রীতি। পরিষ্কার ও নিখুঁত পাঞ্চে একের পর এক আক্রমণ শানান তিনি। রাউন্ডের মাঝামাঝি সময়ে টানা কয়েকটি দুরন্ত কম্বিনেশনে তিনি চাপে ফেলে দেন ডেলগাডোকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে কানাডিয়ান বক্সারকে 'স্ট্যান্ডিং কাউন্ট'-এর মুখেও পড়তে হয়। সেই রাউন্ডও ৫-০ ব্যবধানে জিতে সোনার একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে যান ভারতীয় তারকা।
শেষ রাউন্ডেও অব্যাহত থাকে প্রীতির দাপট। শুরু থেকেই লড়াইয়ের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করেন তিনি। ধারালো বাঁ-হাতি হুক এবং শক্তিশালী ডান হাতের পাঞ্চে বারবার ডেলগাডোকে বিপাকে ফেলেন। শেষ ঘণ্টা বাজার পর সর্বসম্মত রায়ে জয়ী ঘোষণা করা হয় প্রীতি পাওয়ারকে। তবে তাঁর সোনা জয়ের দিনে তিনি একাই সমৃদ্ধ করেননি ভারতের স্বর্ণভান্ডারকে। মাত্র কিছুক্ষণের ব্যবধানেই নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে হারিয়ে সোনা জিতেছেন ২৪ বছরের জেসমিন ল্যাম্বোরিয়াও।
হরিয়ানার ভিওয়ানি জেলা থেকে উঠে আসা জেসমিন বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। এর আগে ২০২২ কমনওয়েলথে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। এ বার ৫৭ কেজির ফাইনালে বিচারকদের সর্বসম্মত রায়ে প্রতিপক্ষকে হারালেন ৫-০ ব্যবধানে। অন্যদিকে ট্রিপল জাম্পে রুপো পেয়েছেন প্রভীন চিত্রাভেল এবং ব্রোঞ্জ জিতেছেন সেলভা প্রভু থিরুমারান।