নিউজ ডেস্ক: কোচবিহারে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কোচবিহার সফরে এসে প্রশাসনিক বৈঠক, গ্রাম পঞ্চায়েতের অডিট, দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শুরু করে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন, সবকিছু নিয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোচবিহারের সাগরদিঘির পাশে আয়োজিত ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। পরে তিনি জানান, জেলার প্রশাসনিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রবীন্দ্রভবনে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার প্রায় ৬৫০ জন আধিকারিককে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কাজের অডিটও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, কোথাও কোনও অনিয়ম বা গাফিলতি ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম ও তছরুপ হয়েছে। একই সঙ্গে দলের কর্মীদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে কোচবিহার সফরে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে উপনির্বাচন নিয়ে তাঁর মন্তব্য। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। এই নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, ভোটের প্রচারে সকলের অংশ নেওয়া উচিত এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে হওয়া প্রয়োজন।
এরপরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে বাংলায় এসে প্রচার করার আহ্বান জানান তিনি। দিলীপ ঘোষের কথায়, রাহুল গান্ধীর বাংলায় এসে ভোটের প্রচার করা উচিত। তাঁর দাবি, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেতে হলে রাহুলের মাঠে এসে প্রচার করা প্রয়োজন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তৃণমূলের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর দিলীপ ঘোষ বলেন, তিনি হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন, এতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, আদালতে আইনি লড়াই চলতেই পারে।
উপনির্বাচনে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, শুধু অভিযোগ করলেই হবে না, নির্বাচনী ময়দানে নেমে লড়াই করতে হবে। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সমাজবিরোধীদের সঙ্গে রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে।
এদিকে শালবনী জমি সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বয়ান নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগগুলি ধীরে ধীরে সামনে আসছে এবং বিষয়গুলি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে একাধিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে প্রচারপর্ব যত এগোবে, ততই দুই কেন্দ্রের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।