দীর্ঘদিন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে দলের হয়ে সরব ছিলেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। বিরোধীদের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি টেলিভিশন বিতর্ক ও সমাজমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে এবার বিজেপির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি ঘটল। বিজেপি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শেহজাদ পুনাওয়ালা।
সম্প্রতি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের বায়ো থেকে ‘বিজেপি মুখপাত্র’ পরিচয় সরিয়ে ফেলেছিলেন শেহজাদ। বর্তমানে তাঁর বায়োতে লেখা রয়েছে, ‘ধর্ম ইসলাম, সংস্কৃতি হিন্দু, আদর্শ ভারতীয়। সারাজীবন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুগামী।’ বিজেপির কোনও উল্লেখ না থাকায় তখনই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
প্রায় ১৮ বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শেহজাদ। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরে। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দল ছাড়েন তিনি। এরপর বিজেপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে দীর্ঘদিন দলের হয়ে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। ২০২১ সালে তাঁকে দিল্লি বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি শেহজাদ নিজেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। জানা যায়, প্রায় দু’বছর ধরে তিনি রাজনীতি ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন। কয়েক দিন আগে নিজের পুরনো দুটি ভিডিও রিটুইট করেন তিনি। সেই ভিডিওগুলিতে শেহজাদকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। পুরনো ভিডিওগুলি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘২ বছর দেরি করে ফেলেছি ইতিমধ্যেই।’
এরপরই এক্সের বায়ো পরিবর্তন করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াবেন, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন—তা নিয়ে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
শেহজাদ ভবিষ্যতে আবার কংগ্রেসে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে বিজেপি ছাড়ার পর শেহজাদ পুনাওয়ালার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর।