দক্ষিণ ২৪ পরগনার, নিউজ ডেস্ক: বিডিও অফিসে যাওয়ার পথে হঠাৎ বদলে গেল পরিস্থিতি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রামগঙ্গা এলাকায়। এক গাড়িকে ঘিরে শুরু হয় স্লোগান, এরপর পরিস্থিতি গিয়ে পৌঁছয় হাতাহাতিতে। অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত হন গাড়িতে থাকা কয়েকজন এবং গাড়ির চালকও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, পাথরপ্রতিমা পঞ্চায়েত সমিতির দুই কর্মাধ্যক্ষ প্রাণী ও মৎস্য দফতরের বিবেক পোদ্দার এবং খাদ্য দফতরের শশাঙ্ক হালদার বিডিও অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। রামগঙ্গা এলাকায় তাঁদের গাড়ি পৌঁছতে কয়েকজন তাঁদের উদ্দেশ্যে 'চোর চোর' স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। দুই কর্মাধ্যক্ষকে ঘিরে প্রথমে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, স্লোগান দেওয়ার পর একদল লোক গাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন। গাড়িতে থাকা দুই কর্মাধ্যক্ষের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হাতাহাতি থেকে গণধোলাই এর মধ্যে পৌঁছে যায়। একইসঙ্গে, তাঁদের গাড়ি চালক সুবিনয় পট্টনায়কের উপরও হামলা চালানো হয় বলে দাবি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ। পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে, এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হিসেবে উঠে এসেছে গাড়িচালক সুবিনয় পট্টনায়কের উপর হামলার অভিযোগ। পরিবারের দাবি, গাড়ি চালিয়ে সংসার চালান সুবিনয়। ঘটনার দিন তাঁর নিজের দায়িত্ব পালনের জন্যই বেরিয়েছিলেন তিনি। ওইদিন তিনি পশু চিকিৎসা দফতরের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় দুই কর্মাধ্যক্ষ তাঁর গাড়িতে ওঠেন। সুবিনয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িতে ওই দুই কর্মাধ্যক্ষকে দেখেই বাইরে উত্তেজনা তৈরি হয়। চোর চোর স্লোগান দিয়ে লোকজন গাড়ির দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি নিয়ে বিডিও অফিসের দিকে চলে যান। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।
এরপর, আহত অবস্থায় সুবিনয়কে হাসপাতালে নিয়ে গেলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিকিৎসা করা হয় এবং কয়েক জায়গায় সেলাইও পড়ে বলে পরিবারের দাবি। ছেলের এই অবস্থায় কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সুবিনয়ের বাবা-মা। তাঁদের একটাই প্রশ্ন “আমাদের ছেলে কী অপরাধ করেছে? গাড়ি চালিয়ে কাউকে নিয়ে যাওয়াই কি অপরাধ?”। পাশাপাশি, সুবিনয়ের বাবা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে ঘটনার তদন্ত এবং যারা তাঁর ছেলেকে মারধর করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ঘটনার পিছনে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কেউ জড়িত নয়। এরই মধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর থেকে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।
