প্রতিটি মায়েরই একটি স্বপ্ন থাকে— সন্তানের সাফল্য নিজের চোখে দেখা। আর প্রতিটি সন্তানেরও একটি ইচ্ছে থাকে— জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তে মাকে পাশে রাখা। সেই দুই স্বপ্নেরই যেন অপূর্ব মিলন ঘটল মেঘের ওপরে, এক বিমানযাত্রায়।
তরুণ পাইলট তনিশ অরোরা প্রতিদিনের মতোই উড়ান পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু দিনটি ছিল অন্য রকম। কারণ, সেই বিমানের যাত্রী তালিকায় ছিল একটি নাম, যা তাঁর কাছে পৃথিবীর আর সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে— মা।
সেই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ হতেই লক্ষ লক্ষ মানুষ আবেগে ভেসেছেন। কয়েক মিনিটের ভিডিওতে নেই কোনও নাটকীয়তা, নেই বাড়তি আয়োজন। তবু রয়েছে এমন কিছু মুহূর্ত, যা নিঃশব্দেই হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে ছেলের প্রশ্ন, ‘‘আজ কেমন লাগছে?’’ মায়ের মুখে তখন শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ‘‘খুব উত্তেজিত লাগছে।’’ বিমানবন্দরে পৌঁছে অন্য সব যাত্রীর মতোই তাঁর চেক-ইনের ব্যবস্থা করেন ছেলে। তারপর ককপিটের দিকে হাঁটেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই যে বিমানটি রানওয়ে ছেড়ে আকাশে উঠবে, তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর হাতেই।
উড়ানের আগে মায়ের শেষ কথা, ‘‘সাবধানে বিমান চালিও।’’ এই কয়েকটি শব্দে যেন ধরা পড়ে মায়ের অদৃশ্য আশীর্বাদ। সন্তান যত বড়ই হোক, যত উচ্চতায়ই পৌঁছোক, মায়ের কাছে সে চিরকাল সেই ছোট্ট সন্তানই থেকে যায়।
নিরাপদে উড়ান শেষ হওয়ার পর মায়ের চোখে তখন গর্বের ঝিলিক। তিনি জানান, নিজের ছেলের চালানো বিমানে প্রথমবার যাত্রী হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অন্যদিকে তনিশের কণ্ঠেও আবেগ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘‘এক সময় মা আমার আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিলেন। আজ আমি তাঁকে আকাশের পথে নিয়ে যেতে পেরেছি। এই মুহূর্ত আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলির একটি হয়ে থাকবে।’’
ভিডিওটির শেষে একটি বাক্য যেন সব আবেগকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। তনিশ বলেন, ‘‘আমার জীবনে আরও হাজার হাজার যাত্রী আসবেন। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় যাত্রী সবসময় একজনই থাকবেন— আমার মা।’’
এই একটি বাক্যই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। হাজার হাজার মানুষ লিখেছেন, এ শুধু একটি বিমানযাত্রার গল্প নয়; এটি এক সন্তানের কৃতজ্ঞতার ভাষা। কেউ বলেছেন, ‘‘সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও যে মানুষটি প্রথম হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন, তাঁকে ভুলে না যাওয়ার নামই প্রকৃত সাফল্য।’’ আবার কারও মন্তব্য, ‘‘মায়ের হাসির চেয়ে বড় পুরস্কার কোনও সন্তানের জীবনে হতে পারে না।’’
প্রযুক্তি যতই এগোক, আকাশ যতই মানুষের নাগালে আসুক, কিছু অনুভূতির কোনও বিকল্প হয় না। মায়ের চোখে সন্তানের সাফল্যের গর্ব, আর সন্তানের কাছে মাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত আসনে বসানোর ইচ্ছা— এই দুইয়ের মিলনেই তৈরি হয় এমন কিছু মুহূর্ত, যা কোনও উচ্চতায় নয়, মানুষের হৃদয়েই চিরকাল ভেসে থাকে।