স্পোর্টস ডেস্ক: যদিও এশিয়াডের ইতিহাসে প্রথমবার মিক্সড মার্শাল আর্টে পদক জিতে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন তিনি। তবে সেমিতে লড়াই শেষ হয়েছিল অমীমাংসিত ফলাফলে। আর তা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে হার স্বীকার করতে হয়েছে ভারতের সুচিকা তারিয়ালকে। মহিলাদের ৬০ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের হুই হুন তেও-র বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময় অবধি। ম্যাচের পর বিচারকদের রায় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন সুচিকা। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ১০ সদস্যের আরবিট্রেশন প্যানেল লড়াইয়ের ভিডিও খতিয়ে দেখে জানায়, ম্যাচটি আসলে ড্র হয়েছিল। কিন্তু এর পরই সামনে আসে প্রতিযোগিতার অদ্ভুত টাইব্রেক নিয়ম।
সাধারণ নিয়মে এমএমএ-র ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেন ৩ জন বিচারকের প্যানেল। কোনও প্রতিযোগী সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানালে গোটা লড়াইয়ের ফুটেজ খতিয়ে দেখে ১০ সদস্যের একটি জুরি। সেই প্রক্রিয়াতেই সুচিকা-হুইয়ের ম্যাচকে ড্র ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ড্র ঘোষণার পরেও ম্যাচের একজন বিজয়ী নির্ধারণ করার নিয়ম রয়েছে। আর সেখানেই ভাগ্য ঘুরে যায় ভারতীয় প্রতিযোগীর। নিয়ম অনুযায়ী, দুই প্রতিযোগীর ওজন সমান না হলে অপেক্ষাকৃত হালকা খেলোয়াড়কেই জয়ী ঘোষণা করা হয়।
সুচিকার ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ছিল সামান্যই। হুই হুন তেও তাঁর তুলনায় মাত্র ৭০০ গ্রাম হালকা ছিলেন। ফলে আরবিট্রেশন প্যানেলের চোখে লড়াই ড্র হলেও টাইব্রেক নিয়মে জয় পেয়ে যান সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগী। সুচিকাকে তাই ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারিয়ে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হলে ১০০ মার্কিন ডলার নন-রিফান্ডেবল ফি দিতে হয়। সুচিকার ক্ষেত্রে সেই অর্থ জমা দিয়েছিল ভারতীয় এমএমএ ফেডারেশন ও তাঁর কোচ নিখিল কুন্দর।
তবে নিয়মের এই অদ্ভুত সমীকরণের মধ্যেও সুচিকার সাফল্য কমছে না। কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গোলিয়ার আলতানচিমেগ বাইগালমাকে ২-০ হারিয়ে প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনিই এশিয়ান গেমসে এমএমএ-তে পদক নিশ্চিত করেছিলেন। ৩৬ বছর বয়সি সুচিকার রয়েছে জুডো, কুরাশ এবং জুজুৎসুতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ২০২২ সালের বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়েও পৌঁছেছিলেন তিনি। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে কুরাশে অংশ নেওয়ার পর ২০২৪ সালে ফাইটিং জুজুৎসুতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। আইচি-নাগোয়ায় তাই ব্রোঞ্জ শুধু একটি পদক নয়। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভারতীয় মিক্সড মার্শাল আর্টের পথচলার ঐতিহাসিক সূচনা।