জমি-দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। বৃহস্পতিবার এমনই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে সিআইডির তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। প্রতিদিন জেরায় হাজিরা দিতে হবে বলে খবর।
এর আগে একই জমি-দুর্নীতি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছিলেন সুমিত রায়। তবে গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দেন। যদিও চাকরি-দুর্নীতির একটি পৃথক মামলায় শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল। আদালত নির্দেশ দেয়, ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজিরা দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজনে ডাক পড়লেও সহযোগিতা করতে হবে।
সুমিত রায়ের আশঙ্কা, চাকরি-দুর্নীতির মামলায় তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দিতে গেলে জমি-দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই কারণেই হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন তিনি এবং জরুরি শুনানির আর্জিও জানিয়েছেন।
তদন্ত সূত্রে অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল করে বিক্রির একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুমিত রায়। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রির জন্য ভুয়ো নথি তৈরি করা হত এবং সেই প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্মতি ও ভূমিকা ছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সুমিত রায়ের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েও সুমিত রায়ের খোঁজ না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ হয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
উল্লেখ্য, হাই কোর্টে মামলার দ্রুত শুনানি এবং বেঞ্চ পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন সুমিত রায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তবে সেই আবেদন খারিজ করে আদালত জানায়, নিয়মিত বেঞ্চেই মামলার শুনানি হবে। এরপর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুনানি শেষে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক।