পুলিশে হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের। তার মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। সরগরম হালিশহর। এই পরিস্থিতিতে সোমবার তার বাড়িতে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘক্ষণ মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আশ্বাস দেন তাদের পাশে থাকার। একই সঙ্গে পুলিশের গাফিলতির কথাও স্বীকার করে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং তারপরই একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলেন তিনি। তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড এবং হালিশহর থানার আইসি-কে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই ঘটনার নিয়ম মেনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে। ইতিমধ্যেই সেই তদন্তের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পী গৌরীসারিয়াকে। তদন্তের অগ্রগতির সমস্ত তথ্য তাকে এবং মৃতের পরিবারকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তদন্ত সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নয়, পাশাপাশি মৃতের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী এক বছর মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী বিরজু কেওটেকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি মৃতের স্ত্রীকে গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেয়ারও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরই সঙ্গে ছোট দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতি ও তোলাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে কাঁচরাপাড়া পুরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্ৰেপ্তার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার বিচারক তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পুলিশি হেফাজতেই শনিবার মৃত্যু হয় বিরজুর। পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন মৃতের স্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতার আর্জিও জানান। আর তারপরেই পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উল্লেখ্য, রবিবার কাঁচরাপাড়ায় ওই মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেন। আর সেখানে গিয়েই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। চোর চোর স্লোগান ওঠে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িকে লক্ষ্য করে কাদা ছোড়া হয়। রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউকে কিছু না জানিয়ে কাঁচরাপাড়ায় গিয়েছিলেন। যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে বিজেপির কেউ ছিলনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোথাও গেলে পুলিশকে সময় মতো জানিয়ে যাবেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অবশ্য বিরজু কেওটের মৃত্যুর তদন্তে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এখন ময়নাতদন্তে রিপোর্টের অপেক্ষায় সকলে।