গোটা শ্রাবণ জুড়ে বাঙালির রান্নাঘরে জায়গা করে নেয় নিরামিষ খাবার। উপবাসের নিয়ম অনুযায়ী অনেকেই ভরসা করেন সাবুদানা, ফলমূল কিংবা আলু জাতীয় খাদ্য দ্রব্যে। কিন্তু প্রতি সোমবার একই ধরনের একঘেয়েমি খাবারের স্বাদ বদলাতে চটজলদি বানিয়ে নিন এই রেসিপি গুলি।
১) আলু বাদামের মিশাল
এটি সম্পূর্ণ নিরামিষ একটি পদ। মুম্বইয়ের জনপ্রিয় খাবার মিশালের সঙ্গে এই পদটি মিল রয়েছে। প্রথমে কড়াইতে ঘি দিয়ে তাতে জিরে ফোড়ন দিয়ে কাঁচালঙ্কা ও আদা কুচি ভেজে নিতে হবে। তার পর সেদ্ধ আলু দিয়ে হালকা করে নাড়াচাড়া করে ভাঙা চিনাবাদাম, নারকেল ও জিরের গুঁড়ো মেশাতে হবে। আঁচ কমিয়ে ফেটানো টক দই ধীরে ধীরে মেশাতে হবে। দই যাতে কেটে না যায়, সেজন্য নাড়তে থাকুন। সামান্য গুড় বা চিনি এবং শেষে লেবুর রস দিলে স্বাদ অতুলনীয় হয়ে উঠবে। ধনেপাতা ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন পরোটার সঙ্গে।
২) সামা চালের নারকেল পোলাও
শ্রাবণের উপবাসের খাবারে সামা চালের ভাত অনেকেই খান। তবে খিচুড়ি নয়, এই চাল দিয়ে তৈরি করুন সুগন্ধি পোলাও। সামা চাল ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর জলে চাল সেদ্ধ করে আলাদা করে রাখতে হবে। তারপর কড়াইয়ে ঘি গরম করে জিরে ফোড়ন দিন। তাতে কাজু, চিনাবাদাম ও কিশমিশ দিয়ে হালকা ভেজে নিন। এর সঙ্গে কোরানো নারকেল ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে এক মিনিট নারাচারা করে সেদ্ধ সামা চাল মিশিয়ে দিতে হবে। সামান্য নুন দিয়ে আরও দু-তিন মিনিট রান্না করলেই তৈরি নারকেল পোলাও। নিরামিষ তরকারির সঙ্গে তো বটেই, চাইলে শুধুও খেতে পারেন।
৩) নারকেল-মাখানার ক্ষীর
শ্রাবণ মাসে মাখানার ব্যবহার বহু প্রচলিত। তবে এবার মাখানার ক্ষীরে যোগ করুন নারকেলের স্বাদ। প্রথমে কড়াইতে ঘি দিন। তারপর মাখানা হালকা করে ভেজে নিতে হবে। অন্যদিকে কম আঁচে দুধ জাল দিয়ে কিছুক্ষণ ঘন করে ফুটিয়ে নিন। এরপর দুধের মধ্যে মাখানা ও কোরানো নারকেল দিয়ে আরও কয়েক মিনিট ফুটান। আঁচ বন্ধ করে দিন। শেষে এলাচের গুঁড়ো ও কাজু কুচি ছড়িয়ে দিন। মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হলে জমে যাবে। তারপর পরিবেশন করুন নারকেলের মাখানার ক্ষীর।
শ্রাবণের সোমবারে একঘেঁয়ে খাবার থেকে বেরিয়ে সাবুদানা বা ফলাহারে ক্লান্ত না হয়ে বানিয়ে নিন ভিন্ন স্বাদের এই তিন নিরামিষ আহার। যা পেটেও থাকবে অনেকক্ষণ, আবার খেতেও সুস্বাদু।