পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামের জঙ্গল মানেই শুধুমাত্র পাহাড়ি সৌন্দর্য ও সবুজের ঘেরা রাস্তাঘাট নয়। এই সৌন্দর্যের পেছনে সব সময়ই থাকে হাতির আতঙ্ক। বিশেষ করে ঝাড়গ্রামে হাতির আনাগোনা প্রায়সই দেখতে পাওয়া যায়। এবার সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ। হাতির করিডোর চিহ্নিত রাস্তা গুলিতে নেমে পথচারী ও যানবাহন চালকদের সচেতন করবে খোদ পুলিশকর্মীরা। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সচেতনতামূলক লিফলেট। এরই পাশাপাশি হাতের সামনাসামনি হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কি করনীয় সে বিষয়েও তাদেরকে অবগত করা হবে।
এ বিষয়ে ঝারগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, রাজ্য সড়কের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তাতেও হাতির যাতায়াত দেখতে পাওয়া যায়। সামান্য অসাবধানতা জন্য ঘটতে পারে বড়সড়ো দু-র্ঘটনা। তাই হাতির করিডোরে যাতে নিরাপদে মানুষ চলাচল করতে পারে সেই কারণেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করায় এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এতে দু-র্ঘটনা কিছুটা হলেও কমানো যাবে।
বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা যেমন ঝাড়গ্রাম, লোধাশুলি, পুকুরিয়া, কুসুমঘাঁটি, বাঁশতলা, বেলতলা, মানিকপাড়া, গুপ্তমণি, জারুলিয়া সহ মোট ১৫-টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বিশেষ সচেতনতা অভিযান চালানো হবে। পুলিশ ও বনবিভাগের পরামর্শ মেনে হাতি চলাচলের রাস্তায় যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হবে। হাতির করিডোরে বনদপ্তর ও পুলিশের নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে মানতে হবে। এর পাশাপাশি রাতের বেলাতে টর্চ লাইট ব্যবহার করতে হবে।
৩-রা আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ যা চলবে আগামী ৯-ই আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় সচেতনতামূলক পদযাত্রা, স্কুল-কলেজে সচেতনতা বার্তা এবং স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। গজরাজের কারণে পথ দুর্ঘটনা রোধ করতে বিশেষ সচেতনতা অভিযানে নামতে চলেছে জেলা পুলিশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন মানুষের প্রাণহানি কমবে তেমনই বন্যপ্রাণ ও মানুষের মধ্যে সংঘাত এড়ানো যাবে। সচেতনতার সঙ্গে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আগামী দিনের তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এমনটাই আশা জেলা প্রশাসনের।