নামখানা, নিউজ ডেস্ক: সকালটা আর পাঁচটা দিনের মতোই খুবই স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছিল। সকালে বাড়িতে একাই ছিল কিশোরী। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের কাজে। বাড়ি ফিরে মেয়েকে ডাকতে শুরু করেন বাবা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর বাড়ির ছাদে গিয়ে যে দৃশ্য তাঁর চোখে পড়ে, তাতে কার্যত মাথায় হাত পড়ে যায় পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের চিৎকারে ছুটে আসেন আশেপাশের মানুষজন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা জেলার উত্তর চন্দনপিড়ী এলাকায়। এক স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মৃত স্কুল ছাত্রীর নাম অঞ্জনা মিদ্যা। বয়স ১৩ বছর। অঞ্জনা চন্দনপিড়ী মুরারি মোহন হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল। মৃতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, অঞ্জনা সকালে কোচিং না হওয়ার দরুন সে বাড়িতেই ছিল। এদিকে ভোর বেলায় অঞ্জনার বাবা, মা ও বোন একসঙ্গে নিজের বাড়ির বোরোজে কাজে গিয়েছিল। অঞ্জনা একাই বাড়িতে ছিল সেই সময়। কাজ সেরে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে ডাকতে শুরু করেন অঞ্জনার বাবা। কিন্তু বাড়ির ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়াই তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর বাড়ির ছাদে অঞ্জনাকে ঝুলন্ত হিসেবে দেখতে পান বলে পরিবারের দাবি। মেয়েকে ওই অবস্থায় দেখে তৎক্ষনাৎ তিনি চিৎকার শুরু করে দেন। বার বার চিৎকারে শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এরপর অঞ্জনাকে তড়িঘড়ি দ্বারিকনগর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। এমন এক মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কিভাবে এমন পরিণতি হল। কেনই বা এই ঘটনা ঘটালো ওই কিশোরী তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কিশোরীর মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কি কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সেই সঙ্গে মৃত্যুর আগে অঞ্জনার সঙ্গে ঠিক কি ঘটেছিল সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর পেয়ে নামখানা থানার পুলিশ পৌঁছায় ঘটনাস্থলে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কিশোরীর মৃত্যুর আগে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে, প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
ছোট এই কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে এলাকার মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরাও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। গোটা এলাকা জুড়ে থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
