কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ফের ইতিহাস গড়ল ভারতীয় ব্যাডমিন্টন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে মহিলাদের ডাবলসে ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তৃষা জলি এবং গায়ত্রী গোপীচাঁদ। শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে চিনের চতুর্থ বাছাই জিয়া ই ফান ও ঝ্যাং শু শিয়ানকে তিন গেমের লড়াইয়ে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠলেন ভারতের জুটি। প্রথম গেমে হেরে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। শেষ পর্যন্ত ১৬-২১, ২১-১৫, ২১-১৩ ফলে ম্যাচ জিতে নিলেন তৃষা-গায়ত্রী। আর সেই সঙ্গেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অন্ততঃ ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়ে গেল ভারতের।
এই জয় শুধু একটি সেমিফাইনালে ওঠার সাফল্য নয়, ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসেও বিশেষ মুহূর্ত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে শেষবার ভারতের মেয়েদের ডাবলস থেকে পদক এসেছিল ২০১১ সালে। সে বার ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন অশ্বিনী পোনাপ্পা ও জোয়ালা গুট্টা। তার পর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিশ্বের সেরা মঞ্চে মেয়েদের ডাবলসে ভারতীয় জুটি আর পডিয়ামে উঠতে পারেনি। তৃষা আর গায়ত্রী মিলে সেই খরা কাটালেন ঘরের দর্শকদের সামনে। প্রথম গেমে চিনা জুটির দাপটে কিছুটা চাপে পড়লেও ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই নিজেদের ছন্দ খুঁজে নিয়েছেন তাঁরা।
দ্বিতীয় গেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাডমিন্টন খেলেন ভারতীয় জুটি। পাল্টা আক্রমণে চিনা জুটিকে চাপে রেখে ম্যাচে সমতা ফেরান তৃষা-গায়ত্রী। তৃতীয় গেমে অবশ্য আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধারাবাহিকতা, দ্রুত রিটার্ন এবং নেটের সামনে দুরন্ত নিয়ন্ত্রণে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ২১-১৩ ব্যবধানে তৃতীয় গেম জিতে নিশ্চিত করেন ঐতিহাসিক জয়। গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাসের ঢেউ। ঘরের মাটিতে ভারতীয় জুটির এই লড়াই যেন নতুন করে প্রাণ দিল দেশের মেয়েদের ডাবলস ব্যাডমিন্টনকে।
তবে পদক নিশ্চিত হলেও এখানেই থামতে চান না তৃষা-গায়ত্রী। তাঁদের লক্ষ্য এখন ফাইনাল। কোয়ার্টার ফাইনালে চতুর্থ বাছাই জুটিকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়েই পরের লড়াইয়ে নামবেন তাঁরা। ২০১১ সালের পর ভারতের মেয়েদের ডাবলসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পদক এল ঠিকই। কিন্তু তৃষা-গায়ত্রী জানেন যে, শুধু ব্রোঞ্জে সন্তুষ্ট থাকলেই হবে না। রুপো, এমনকি সোনা জয়ের সুযোগও এখন তাঁদের সামনে। তাই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর পরেও তাঁদের চোখ আরও বড় স্বপ্নে। ভারতের ব্যাডমিন্টনপ্রেমীদের অপেক্ষা এখন সেমিফাইনালের লড়াইয়ের জন্য।