নিউজ ডেস্ক: আক্রমণ, আর তার পর পাল্টা আক্রমণ। এভাবেই ক্রমশ আরও খারাপের দিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। গত কয়েক সপ্তাহ কিছুটা হলেও শান্ত ছিল পরিবেশ। কিন্তু তার পরই রবিবার রাতে হরমুজ প্রণালীর কাছে লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ফের হামলা চালাল আমেরিকা। ওয়াশিংটনের তরফে দাবি করা হয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। সেই সময়ই তাদের রকেট লঞ্চারগুলিকে নিশানা করা হয়। এ দিকে এর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। সে দেশের সরকারি চ্যানেলে দেখানো হয়েছে, জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। পাশাপাশি জর্ডনের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে যে, তাদের দেশের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র আটকেছে তারা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্সের দাবি, লারাকের কাছে ইরানি বাহিনীর গতিবিধি নজরে রেখেছিল আমেরিকা। হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথে মাইন বিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল বলেই তাদের ধারণা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ওই আন্তর্জাতিক জলপথ থেকে সমুদ্র-মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছিল মার্কিন বাহিনী। এ দিকে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, মার্কিনী হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা—এমনকি সাধারণ মানুষও হতাহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি আমেরিকাকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘প্রতিশোধ আসছে। এখন শুধু পালানোর অপেক্ষা।’’
গত ২৯ জুলাইয়ের পর এই প্রথমবার ইরানের মাটিতে আমেরিকার সামরিক হামলার খবর মিলল। সে বার ইরানের উপকূলীয় নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ আইআরজিসির একাধিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছিল ওয়াশিংটন। যদিও তার পর কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর অনুরোধে হামলা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলার বদলে তাঁর প্রশাসন সম্প্রতি তেহরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু লারাকের ঘটনা ফের একবার মুখোমুখি সংঘাতের অশনি সংকেত। যদিও দীর্ঘকালীন এই সংঘর্ষে আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারেও চাপ পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আধিকারিকদের একাংশ।
এই সংঘাতের কেন্দ্রে অবশ্যই হরমুজ প্রণালী। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। যুদ্ধের জেরে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপক হারে কমে গিয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য বার বার দাবি করেছেন, হরমুজ খোলাই রয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ২৪টি জাহাজ ওই জলপথ পেরোলেও যুদ্ধের আগে সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। এ দিকে নতুন হামলার খবর ছড়াতেই আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে তেলের দামও। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল-পিছু ৮৪.৯৪ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুড ১.৯ শতাংশ বেড়ে ৮৯.৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে লারাকের পাল্টা হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়। নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।