নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং আমেরিকার শুল্কনীতির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে পৌঁছনোর পর মঙ্গলবার সকালে একটি ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। একইসঙ্গে অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে বিরোধীদেরও নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও বার্তায় মোদী বলেন, গোটা বিশ্ব বর্তমানে যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন করে সংঘর্ষের খবর সামনে আসছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহও কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে বলে দাবি তাঁর। জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর দেশবাসীর মধ্যে যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপরই বিরোধীদের উদ্দেশে আক্রমণ শানান তিনি। কারও নাম না করে মোদী বলেন, দেশের অগ্রগতির সময়ে কিছু মানুষ হতাশায় ডুবে থেকে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাশ করার চেষ্টা করছেন। তবে সেই ধরনের নেতিবাচক প্রচারকে ভুল প্রমাণ করে ভারত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই তাঁর দাবি।
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল প্রায় ৭.১ শতাংশ। কিন্তু প্রকাশিত পরিসংখ্যানে সেই প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, যাঁরা দেশের অর্থনীতি নিয়ে সবসময় ‘গেল গেল’ রব তোলেন, তাঁদের হতাশ করে ভারত এগিয়ে চলেছে।
অর্থনৈতিক বৃদ্ধির এই গতি ধরে রাখতে দেশবাসীকে আরও বেশি করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর মতো উদ্যোগে জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বদেশি পণ্যের ব্যবহার যত বাড়বে, দেশের অর্থনীতিও তত শক্তিশালী হবে।
এছাড়াও বিদেশে গিয়ে বিয়ে বা ছুটি কাটানোর পরিবর্তে দেশের মধ্যেই এই ধরনের অনুষ্ঠান ও ভ্রমণ করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুবসমাজের জন্য একটি উন্নত ও বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মোদী।
‘ঝুট কি গুঞ্জ’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী রাহুল গান্ধীকেই ইঙ্গিত করে আক্রমণ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান। বিজেপির বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর বিভিন্ন অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে এই নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইটের প্রসঙ্গও রয়েছে। ফলে মোদীর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।