গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বেশ কয়েকদিন ধরে ভেন্টিলেশনে ছিলেন টলিউডের বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক রাজা সেন। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার সকালে এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকাহত পরিবার থেকে গোটা টলিউড।
বাংলা সিনেমা, টেলিভিশন এবং তথ্যচিত্রের জগতে দীর্ঘ কয়েক দশকের উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান হল। ১৪ই আগস্ট পরপর দুবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন রাজা সেন। এছাড়াও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার জন্য লাং ফেইলিওর হয়েছিল তাঁর। সব মিলিয়ে প্রচুর ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
পরিচালকের স্ত্রী, অভিনেত্রী পাপিয়া সেন জানান, রবিবার সকালেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। দুই মেয়েই বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে এসেছিলেন। এখন ছোটমেয়ে যাবতীয় সমস্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজা সেন শুধু একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন না। বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং শিল্পজগতের বহু ব্যক্তিত্বকে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেছিলেন তিনি। ১৯৫৫ সালে কলকাতায় জন্ম রাজা সেনের।টেলিভিশনের পর্দায় একের পর এক সাহিত্যনির্ভর কাজ করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। ‘সুবর্ণলতা’, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘আরোগ্য নিকেতন’, ‘সম্পর্ক’, ‘তারাশঙ্করের ছোটগল্প’, ‘গল্পগুচ্ছ’, ‘বঙ্কিম সাহিত্যে নারী’-র মতো কাজ তাঁর পরিচালনার বৈচিত্র্যের পরিচয় দেয়।
তবে বড় পর্দায় রাজা সেনের সবচেয়ে বড় পরিচিতি আসে ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘দামু’ দিয়ে। ১৯৯৩ সালে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্রকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রের জন্য National Award পেয়েছিলেন তিনি। সবমিলিয়ে তিনি মোট তিনটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন।
রাজা সেনের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র হারাল এমন একজন নির্মাতাকে, যিনি সাহিত্যকে পর্দায় এনেছেন। তিনি আর নেই। কিন্তু থেকে গেল তাঁর তৈরি ছবি, তথ্যচিত্র, টেলিভিশনের কাজ।