কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: সামনে এল বিরাট কোহলির এক অন্য রূপ। ইংল্যান্ডের তরুণ ক্রিকেটার জর্ডন কক্সের টেস্ট অভিষেকের স্বপ্ন যখন কার্যত ভেঙে পড়েছিল, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কোহলি। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ড্রেসিংরুমে কোহলির সঙ্গে সময় কাটানোর সুবাদে তাঁর কাছ থেকে নানা বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কক্স। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার জানিয়েছেন, কোহলির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এখনও রয়েছে। কোনও সমস্যা হলে ফোন বা মেসেজে পরামর্শ চান তিনি। কক্সের কথায়, বড় মঞ্চের চাপকে ভয় না পেয়ে মুহূর্তটাকে উপভোগ করার পরামর্শই দিয়েছিলেন কোহলি।
কক্সের টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষা অবশ্য একেবারেই সুখপ্রদ ছিল না। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার মাত্র ৩ দিন আগে চোট পান তিনি। ফলে হাতের সামনে থাকা টেস্ট ক্যাপ আর মাথায় দেওয়া হয়নি। সেই ধাক্কায় মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছিলেন কক্স। তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো আর কখনও টেস্ট খেলার সুযোগই পাবেন না। সেই সময় কোহলির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কক্স জানিয়েছেন, কোহলি তাঁকে বোঝান, ক্রিকেটের বাইরেও জীবনের একটা বড় জগৎ রয়েছে। বিরাটের সেই কথাই তাঁকে পরিস্থিতিটাকে অন্য ভাবে দেখতে সাহায্য করে।
কক্স বলেন, কোহলি তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ রয়েছেন যাঁরা বিরাট কোহলিকে চেনেনই না। তাই ক্রিকেটের একটি খারাপ দিনকে জীবনের শেষ বলে ভাবার কোনও কারণ নেই। কক্সের বক্তব্য, কোহলির সেই উপলব্ধি তাঁকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে আইপিএলে বিরাটের কাছ থেকে তিনি শিখেছেন, বড় মুহূর্তে চাপকে উপভোগ করতে হয়। কোহলি তাঁকে বলেছিলেন, অভিষেক জীবনে একবারই আসে। তাই সেই মুহূর্তকে উপভোগ করা উচিত এবং মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
কোহলির ব্যক্তিত্বের আরও একটি দিকও তুলে ধরেছেন কক্স। তাঁর মতে, মাঠে কোহলি অত্যন্ত আগ্রাসী, জয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করেন। কিন্তু মাঠের বাইরে সম্পূর্ণ অন্য মানুষ তিনি। কক্সের কথায়, মাঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর আগ্রাসী থেকেও মাঠের বাইরে কী ভাবে সকলের প্রিয় মানুষ হয়ে থাকা যায়, সেটাই কোহলির কাছ থেকে শেখার বিষয়। আর সেই কারণেই বিরাটকে নিজের অন্যতম আদর্শ মনে করেন ইংল্যান্ডের এই তরুণ ক্রিকেটার। তাঁর কাছে কোহলি শুধু ক্রিকেটের মহাতারকা নন, কঠিন সময়ে ভরসা দেওয়ার মতো একজন পরামর্শদাতাও।