স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাট হাতে নতুন অবতারে বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। প্রকৃতির নিয়মে বয়স বাড়ছে ঠিকই। কিন্তু তাঁর আগ্রাসন কমেনি এতটুকু। বরং নিজের মতো করে খেলার স্বাধীনতা পাওয়ায় যেন আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন তিনি। তিরুবনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ওডিআই ম্যাচে কিং কোহলির দুরন্ত শতরানের পর এমনই মনে করছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমান গিল। তাঁর মতে, কোহলি বরাবরই ছক্কা মারার ক্ষমতা রাখেন। তবে এখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে খেলছেন তিনি। আর সেটাই তাঁর ব্যাটিংয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে জয়ের পর তাই কোহলির প্রশংসায় পঞ্চমুখ গিল।
টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়কের ব্যাটে এ দিন দেখা গিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী আগ্রাসন। মাত্র ৭৪ বলে শতরান পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে ১৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তাঁর ৫৫ তম শতরান। এই অবিস্মরণীয় ইনিংসে ওডিআই ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। এর পরই গিলের কথায়, “কোহলি এখন খেলাটা অনেক বেশি উপভোগ করছেন। স্বাধীনভাবে ব্যাট করছেন। এই দক্ষতা তাঁর বরাবরই ছিল। যখনই ইচ্ছা, ছক্কা মারার ক্ষমতা রয়েছে ওঁর। আমার মনে হয়, এখন সেটাই করছেন।” ভারত অধিনায়কের আরও সংযোজন, "কোহলির মতো ক্রিকেটারকে নিজের মতো খেলতে দেওয়াই উচিত। কারণ, তিনি ছন্দে থাকলে একাই ম্যাচ জেতাতে পারেন।"
https://x.com/BCCI/status/2104237124434407629
তবে শুধু কোহলি নন। নিজের ব্যাটিং নিয়েও যথেষ্ট সন্তুষ্ট গিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১০৮ বলে ১১০ রান করেন তিনি। যদিও শতরান করার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। তাই ম্যাচ শেষ করে ফিরতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। গিল বলেন, “আউট হওয়ার পর মনে হয়েছিল, ম্যাচটা শেষ করে আসা উচিত ছিল। শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকতে পারলে ভাল লাগত। তবে নিজের ইনিংস নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।” পাশাপাশি, একদিনের ক্রিকেটে ৮ নম্বরে একজন অতিরিক্ত ব্যাটার রাখার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। তাঁর মতে, অন্তত ২৫-৩০ রান করার ক্ষমতা থাকা কোনও ব্যাটার ৮ নম্বরে থাকলে দলের সুবিধা হবে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করতেও প্রস্তুত ভারত।
এ দিনের ম্যাচে ভারতের জয়ের অন্যতম কারিগর কুলদীপ যাদব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার যখন ১৩৫ রানের জুটি গড়ে ফেলেছেন, তখনই টিম ইন্ডিয়াকে ম্যাচে ফেরান কুলদীপ। তাঁর দাপুটে বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ২৯৫ রানে থামে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। ৪০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন কুলদীপ। তাঁরও প্রশংসা করে গিল বলেন, মাঝের ওভারগুলিতে কুলদীপ উইকেট তুলে নিতে পারলে প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি হয়। এ দিনও সেটাই করেছেন তিনি। অন্য দিকে, ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শাই হোপের মতে, আরও ৬০ থেকে ৮০ রান করা উচিত ছিল তাঁদের। মাঝের ওভারগুলিতে দ্রুত উইকেট হারানোই শেষ পর্যন্ত কাল হল ক্যারিবিয়ানদের।