কলকাতা: ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট! এমনই সন্দেহজনক নেটওয়ার্কের তদন্তে নেমেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। পশ্চিমবঙ্গের চার বাসিন্দার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত দুটি পৃথক মামলার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। গোটা ঘটনায় আরও বড় কোনও চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কীভাবে কাজ করত এই চক্র?
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে সেগুলি সক্রিয় করার পর সেই নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হত। এরপর ভারতে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ওটিপি (OTP) সংগ্রহ করে সীমান্তের ওপার থেকে ওই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করা হত বলে অভিযোগ। প্রতিটি সিম কার্ডের জন্য ভারতে থাকা অভিযুক্তদের কয়েক হাজার টাকা দেওয়া হত বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে সিম কার্ড সংগ্রহ, সক্রিয়করণ এবং ওটিপি ভাগ করে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলত। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানে থাকা সন্দেহভাজন হ্যান্ডলারদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদের চারজনের নাম
প্রথম মামলায় পশ্চিম মেদিনীপুরের শেখ মুরসালিন এবং গৌতম খানড়ার নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় সিম কার্ড বিক্রি ও সক্রিয় করার কাজে যুক্ত ছিলেন। ওই নম্বরগুলির ওটিপি ব্যবহার করে পাকিস্তানে থাকা ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করতেন বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। এই পদ্ধতিতে গত কয়েক বছরে প্রায় ৪০০টি সিম কার্ড সক্রিয় করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান এনআইএর। তবে এই সংখ্যাটি এখনও তদন্তের বিষয়, চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।
দ্বিতীয় মামলায় মুর্শিদাবাদের শেখ জুহাব এবং শেখ সুমনের নাম রয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তাঁরাও একই ধরনের পদ্ধতিতে সিম কার্ড সক্রিয় করা এবং হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের জন্য ওটিপি ভাগ করে দেওয়ার কাজে যুক্ত থাকতে পারেন।
দুটি মামলার তদন্তভার এনআইএর হাতে
এর আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ এই দুটি মামলার তদন্ত করছিল। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে তদন্তভার এনআইএর হাতে আসে। দুটি মামলাকে আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এর পিছনে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক থাকতে পারে, যারা ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ, ওটিপির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা এবং সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদানে সাহায্য করত।
নজরে পাকিস্তানি গোয়েন্দা যোগাযোগ
পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং ভারতে তাঁদের সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে এনআইএ। এর আগে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই মামলায় ঠিক কী ধরনের তথ্য আদানপ্রদান করা হয়েছিল, অভিযুক্তদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত এবং কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তদন্ত এগোলে এই নেটওয়ার্কের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
