কলকাতা: পুজোর আগে ফের আবহাওয়ার মেজাজ বদলের ইঙ্গিত। উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে এই নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে এখনই পশ্চিমবঙ্গে কোনও ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস নেই।
আবহাওয়া দফতরের কলকাতা কেন্দ্রের সর্বশেষ সতর্কতা অনুযায়ী, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হতে পারে। ওই দিন থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বরও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে।
কলকাতাতেও আগামী কয়েক দিন আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। কলকাতা-হাওড়া এলাকার পূর্বাভাসে ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুর ও দমদমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দমকা হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। ফলে শহরবাসীকে বাইরে বেরোনোর সময় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, উত্তর আন্দামান সাগরের নিম্নচাপটি আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন আবহাওয়া পূর্বাভাসে এটি ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ় এবং সিকিমের কিছু অংশেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্নচাপ শক্তি বাড়ালে পূর্ব ও মধ্য ভারতের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের পূর্বাভাস নেই। নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের উপর আগামী দিনের পরিস্থিতি নির্ভর করবে। তাই আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়া আপডেটের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া থাকতে পারে বলে প্রয়োজন ছাড়া খোলা জায়গায় না থাকা, গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়া এবং বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার সতর্কতা দেখে নেওয়াই নিরাপদ।