কলকাতা: নির্বাচনী প্রচারে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে আগের সরকারের আর্থিক লেনদেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দুর্নীতির অভিযোগের খতিয়ান জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। সরকার গঠনের দু'মাসের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বিজেপি সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনকালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে 'শ্বেতপত্র' প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু করেছে নবান্ন। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বসছে মন্ত্রীগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
নবান্ন সূত্রের খবর, সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন দফতর থেকে তথ্য সংগ্রহ, অভিযোগের নথি খতিয়ে দেখা এবং তার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওই কমিটিকে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকেই খসড়া তৈরির রূপরেখা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং বিভিন্ন দফতরের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সরকারি সূত্রের দাবি, শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, নিয়োগ দুর্নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-সহ একাধিক ক্ষেত্রের তথ্য এই শ্বেতপত্রে স্থান পেতে পারে। লক্ষ্য, গত দেড় দশকের প্রশাসনিক কার্যকলাপের একটি সরকারি মূল্যায়ন জনসমক্ষে তুলে ধরা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই শ্বেতপত্র নিছক প্রশাসনিক নথি নয়, বরং নতুন সরকারের অন্যতম বড় রাজনৈতিক হাতিয়ারও হতে চলেছে। আগের সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগগুলি তুলে এসেছে বিজেপি, সেগুলিকে সরকারি নথির ভিত্তিতে সাজিয়ে জনতার সামনে তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও এই নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ ছাড়া আর কিছু নয়। বিরোধীদের বক্তব্য, সরকার প্রশাসনিক কাজের বদলে রাজনৈতিক প্রচারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, জনতার করের টাকার হিসাব জনতার কাছেই তুলে ধরা সরকারের দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ।
এখন নজর বৃহস্পতিবারের বৈঠকের দিকে। মন্ত্রীগোষ্ঠীর আলোচনার পর শ্বেতপত্র প্রকাশের সময়সূচি ও পরবর্তী কর্মপন্থা চূড়ান্ত হতে পারে বলেই নবান্ন সূত্রের ইঙ্গিত।




