মায়ামি, নিউজ ডেস্ক: ছোটবেলার শখই যে এক দিন কোটি কোটি টাকার ব্যবসার চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে, তা হয়তো ভাবেননি মায়ামির অঁদ্রেস ফার্নান্ডেজ। ব্যবসা নিয়ে পড়াশোনা করতে কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু এক সেমেস্টার কাটতে না কাটতেই পড়াশোনায় ইতি। কারণ, তত দিনে পোকেমন কার্ডের বাজার তাঁকে টেনে নিয়েছে অন্য এক দুনিয়ায়। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাঁকে কয়েক কোটি ডলারের ব্যবসার মালিক করেছে।
ফার্নান্ডেজের সংস্থা MintlyCollects গত বছর প্রায় ৭৮ লক্ষ ডলারের বিক্রি করেছে—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪.৪ কোটি টাকা। এ বছর সেই ব্যবসার বিক্রি এক কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। কলেজের ডিগ্রি না থাকলেও কী ভাবে একটি শখকে পূর্ণ সময়ের ব্যবসায় পরিণত করা যায়, ফার্নান্ডেজের গল্প যেন তারই বিরল উদাহরণ।
শুরুটা অবশ্য এত বড় ছিল না। ছোটবেলায় পোকেমন ভিডিয়ো গেম খেলতেন ফার্নান্ডেজ। কার্ড সংগ্রহের বিশেষ নেশা ছিল না। এক দিন আমেরিকার Target দোকান থেকে মাত্র ৫ ডলারের একটি পোকেমন কার্ডের প্যাকেট কিনেছিলেন এক আত্মীয়কে উপহার দেওয়ার জন্য। প্যাকেট খুলতেই বেরোয় একটি বিরল কার্ড। যার বাজারমূল্য প্রায় ১০০ ডলার।
মাত্র পাঁচ ডলারের প্যাকেট থেকে প্রায় ১০০ ডলারের কার্ড! লাভের সেই সম্ভাবনাই ফার্নান্ডেজের চোখ খুলে দেয়। নিজের হাতে থাকা টাকা দিয়ে একের পর এক কার্ড কিনতে শুরু করেন। অনলাইনে কার্ড খোলার ভিডিয়ো পোস্ট করতেন, বাজারদর বুঝতেন, কোন কার্ড বিরল, কোনটির চাহিদা বেশি—ধীরে ধীরে শিখে ফেলেন সেই হিসাব।
তার পর আসে বড় সিদ্ধান্ত। ব্যবসা নিয়ে কলেজে ভর্তি হলেও এক সেমেস্টারের পর পড়াশোনা ছেড়ে পোকেমন কার্ড বিক্রিকেই পেশা করে নেন তিনি। শুরু হয় Instagram Live-এ কার্ড বিক্রি। দর্শক বাড়তে বাড়তে এক সময় প্রায় ৩০ হাজার অনুসারী জুটে যায় তাঁর। ২০২০ সালের শেষ দিকে তাঁর জীবনে আসে আরও বড় মোড়। লাইভ-শপিং প্ল্যাটফর্ম Whatnot পোকেমন বিভাগ চালু করলে ফার্নান্ডেজকে প্রথম দিকের মাত্র পাঁচ জন সরকারি স্ট্রিমারের মধ্যে জায়গা দেওয়া হয়।
তবে শুধু ভাগ্যের জোরে এই সাফল্য আসেনি। ব্যবসা বড় করতে গিয়ে বড় ঝুঁকিও নিয়েছেন ফার্নান্ডেজ। বিপুল পরিমাণ কার্ডের মজুত তৈরি করতে ১.৫ লক্ষ ডলার ঋণ নেন তিনি। সেই ঝুঁকি শেষ পর্যন্ত কাজে লাগে। ধীরে ধীরে MintlyCollects-এর পরিধি বাড়তে থাকে। এখন সংস্থাটি একাধিক স্ট্রিমিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যবসা চালায়। সব মিলিয়ে তাদের অনুসারীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষেরও বেশি।
ফার্নান্ডেজের সাফল্যের আরও একটি দিক নজর কাড়ছে। তাঁর কোনও ব্যবসায়িক ডিগ্রি নেই। নিজের কথাতেই, পড়াশোনার বদলে তাঁকে শিখতে হয়েছে বাস্তব বাজার থেকে—কখন কিনতে হবে, কী ভাবে বিক্রি করতে হবে, ক্রেতার চাহিদা কী, কোন কার্ডের দাম বাড়তে পারে। ভুল করেছেন, ক্ষতিও হয়েছে, আবার সেই ভুল থেকেই শিখেছেন।
তবে এত বড় ব্যবসা দাঁড় করাতে গিয়ে ব্যক্তিগত আরাম বিসর্জন দিতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সময় নিজের জন্য কোনও বেতন নেননি। তাঁর বক্তব্য, শুধু পরিস্থিতির উপর ভরসা করে বসে থাকলে হবে না। নিজের আগ্রহের জায়গা খুঁজে নিয়ে সেই দিকে এগোতে হবে। কাজ না করলে পথ বদলাতে হবে, নতুন কিছু শিখতে হবে।
একটি পাঁচ ডলারের প্যাকেট, তার ভিতরে পাওয়া বিরল কার্ড—সেখান থেকেই শুরু। আজ সেই ছোট্ট আবিষ্কারের সূত্র ধরে বছরে ৭৪ কোটি টাকার বিক্রি। পোকেমন কার্ড তাই ফার্নান্ডেজের কাছে আর নিছক শৈশবের খেলা নয়—সেটিই হয়ে উঠেছে তাঁর ব্যবসার সাম্রাজ্যের প্রথম ইট।