নিউজ ডেস্ক: তাসখন্দে পা দিয়েই একটি যোগাসনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এ বার তাঁর লক্ষ্য দেশ, কাল এবং ভাষার সীমানা পেরিয়ে জ্ঞানের আদানপ্রদান। উজবেকিস্তান সফরে গিয়ে তামিলের প্রাচীন জ্ঞানগ্রন্থ ‘তিরুক্কুরল’-কে উজবেক ভাষায় অনুবাদের আহ্বান জানালেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কয়েক শতাব্দী আগে তামিল ভাষায় লেখা এই গ্রন্থ আজও আধ্যাত্মিকতা, দর্শন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে গভীর অনুপ্রেরণার উৎস।
তাসখন্দে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেখানে হাজির হন মোদী। তার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা যখন ৮০ তম বার্ষিকী উদ্যাপন করছেন, তখন কি তিরুক্কুরলকে উজবেক ভাষায় অনুবাদ করার একটি উদ্যোগের কথা ভাবতে পারেন?’’
তাঁর মতে, এমন উদ্যোগ উজবেকিস্তানের জ্ঞানভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তিরুক্কুরলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রচনা অত্যন্ত শক্তিশালী। এর সঙ্গে পাঠকের গভীর আত্মিক সংযোগ তৈরি হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন তামিল ভাষায় রচিত এই গ্রন্থের মাধ্যমে মানবচিন্তার সেই গভীরতা উপলব্ধি করা সম্ভব, যা মানুষের বিকাশযাত্রার একেবারে সূচনালগ্ন থেকেই চলে আসছে।
মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার বৃহত্তর অর্থও। তাঁর মতে, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়। বরং তা হওয়া উচিত জ্ঞানের প্রতি একনিষ্ঠ সাধনার ক্ষেত্র। যেখানে মানুষ জ্ঞানের বিশাল সমুদ্রে ডুব দেওয়ার সুযোগ পায়। নবীন প্রজন্মের কাছে প্রাচীন জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বইয়ের মাধ্যমে সেই জ্ঞানকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং যে মানুষরা মূল ভাষাটি জানেন না, তাঁদের কাছেও তা পৌঁছনোর চেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোদীর এই প্রস্তাব তাই শুধু একটি সাহিত্যকর্মের অনুবাদের আহ্বান নয়। ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং প্রাচীন জ্ঞানচর্চার সেতুবন্ধন আরও মজবুত করার বার্তাও বহন করছে। উল্লেখ্য, শনিবার উজবেকিস্তানে পা রাখা ইস্তক উষ্ণ অভ্যর্থনায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী। বিমান বন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকত মিরজিওয়েভ। এর পর রবিবার মোদীকে ভূষিত করা হয় উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান 'অর্ডার অব ওলি দারাজালি দোস্তলিক'-এ।