নিউজ ডেস্ক: বর্ষার দাপটে ভয়ঙ্কর ছবি হিমাচল প্রদেশে। প্রবল বৃষ্টিতে শুধু জনজীবনই বিপর্যস্ত নয়। পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রেল এবং সড়ক যোগাযোগও। ভয়াবহ ভূমিধ্বসে ঐতিহ্যবাহী কালকা-শিমলা রেলপথের একটি অংশ কার্যত ঝুলে পড়েছে মাঝ আকাশে। সোলান জেলার পারওয়ানোর কাছে টাকসাল এবং গুম্মান স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় রেললাইনের নীচের মাটি বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাওয়ার ফলেই এই মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি জায়গাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। পরিস্থিতির জেরে ওই রুটে বাতিল করা হয়েছে একাধিক ট্রেন।
রেল সূত্রে খবর, কালকা-শিমলা রুটে সমস্ত ট্রেন আপাতত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি শিমলা-শিবালিক ডিলাক্স এক্সপ্রেস এবং শিমলা-হিম দর্শন এক্সপ্রেসের পরিষেবাও আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে সোলান, কোটী এবং ধরমপুরে প্রায় ৪০০ যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রায় ৪০ জন ট্রেনকর্মী এবং আইআরসিটিসি-র কর্মীও। পরে ৫টি বাস এবং দু’টি টেম্পো ট্রাভেলারে করে কালকা স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় যাত্রীদের। সেখানে খাবারের প্যাকেট ও পানীয় জল দেওয়া হয় তাঁদের। এর পর প্রায় ১২০ জন যাত্রীকে তুলে দেওয়া হয় ১৩০৫২ নম্বর ট্রেনে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য সেই ট্রেনের সময়ও পিছিয়ে রাত দেড়টায় করা হয়।
বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে গোটা রাজ্যের সড়ক ব্যবস্থাতেও। রাজ্য সরকারের স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে মোট ৬৪টি রাস্তায় বন্ধ ছিল যান চলাচল। এর মধ্যে মান্ডিতে ২৪টি, কুল্লুতে ১৬টি, কাঙ্গড়া ও সিরমৌরে ৭টি করে, উনায় ৪টি, শিমলায় ৩টি, চাম্বায় ২টি এবং লাহৌল-স্পিতিতে একটি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টিতে ২২৫টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার এবং ৯টি জল সরবরাহ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উত্তর ভারতের এই রাজ্যের একাধিক এলাকায় স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
এ দিকে এরই মধ্যে আবার নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। তারা জানিয়েছে, ৩১ অগাস্ট থেকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলছে। ধৌলাকুয়ানে ৩৮.৫ মিলিমিটার, ঘাগাসে ৩০ মিলিমিটার, পালমপুরে ২৩.৮ মিলিমিটার এবং মুরারি দেবীতে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি এলাকা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের কবলেও পড়েছে। ফলে সব মিলিয়ে অবস্থা একেবারে সঙ্গীন। উল্লেখ্য, ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কালকা-শিমলা রেলপথটি ১০২টি সুড়ঙ্গ, প্রায় ৮০০টি সেতু এবং ৯১৯টি বাঁক পেরিয়ে পাহাড়ি পথে এগিয়েছে। বর্ষায় বার বার ধস ও বৃষ্টির ধাক্কায় এই ঐতিহ্যবাহী ‘টয় ট্রেন’ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।