কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ' মার্ক্সের স্লোগান থাকবে, দেশবিরোধী স্লোগান নয়।' এই বার্তাই দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। আসলে দিলীপ ঘোষ ভারতের অখন্ডতা রক্ষার জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতেই কঠোর হতে পারেন। এমনটাই তিনি বহুবার প্রমাণ করেছেন। ভারতের জাতীয়তাবাদ রক্ষায় এবং সেইসঙ্গে ভারতের অখন্ডতা রক্ষা ও ভারতের প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীকে শুভ বোধ জাগিয়ে তোলায় তার বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এমন মন্তব্য করার পিছনে কারণ কী?
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘটে গিয়েছে একটি ছাত্র-সংঘর্ষ । সংঘর্ষের যুযুধান দুই পক্ষ ছিল এবিভিপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সংঘর্ষে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে বার্তা দেন।মুখ্যমন্ত্রী বলেন 'যাদবপুর ক্যাম্পাসে নেশা করা এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবে না।' এরপরেই ঘটে যায় মূল বিতর্ক,নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
যাদবপুর ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশে সেখানে যায়। দেখা যায় যে কিছু দেশবিরোধী স্লোগান এবং পোস্টার সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে দেওয়া রয়েছে। শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানো-উতোর। দেওয়ালে 'রেড স্যালুট কিষেণজি' লেখা। ফ্রি প্যালেস্টাইন লেখা। আরও লেখা 'ফ্যাসিস্ট ডু নট ডিসার্ভ ডেমোক্র্যাসি' অ্যান্ড দে ডিসার্ভ আ বুলেট ইন দ্য হেড'-র মত শব্দগুচ্ছ। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই শনিবার রাতারাতি দেশবিরোধী তথা আপত্তিকর লিখন ও গ্রাফিতি মুছে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দেওয়াল দেওয়ালগুলোকে সাদা চুনকাম করা হয়। তবে রবিবার রাতে ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে ফের লেখা হয় কার্ল মার্কসের উক্তি।
এবার এই নিয়েই সরব হয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।তিনি বলেন- ‘প্রথমবার তো এরকম হল। ওখানে অ্যান্টি ন্যাশনাল স্লোগান মোছার প্রয়োজন মনে করেছে সরকার, তাই করেছে। এর আগে তো কেউ চেষ্টা করেনি। যাঁরা ক্যাম্পাসকে দখল করে এতদিন এখানে অ্যান্টি ন্যাশনাল মুভমেন্টের কেন্দ্র তৈরি করেছিল। তাঁরা তো একটা বার্তা পেয়েছে যে এটা চলবে না। দেওয়াল লিখন গণতান্ত্রিক দেশে সবাই করতে পারে। আর কার্ল মার্কসের নীতি লেখা তো এখানে ব্যান হয়ে যায়নি। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা, ভারতের ঐক্য, অখন্ডতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা, এটা তো ভারত সরকার বরদাস্ত করবে না।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর দাবি- ‘আমি অসুখও জানি, ওষুধও জানি। আমাদের বিদ্যার্থী পরিষদ দিল্লির জেএনইউ, হায়দরাবাদের ওসমানিয়া, সবাইকে শুধরে দিয়েছে। যাদবপুর এখনও বাকি। এটাও হয়ে যাবে। এত সাহস, আর্টস হস্টেলের দেওয়ালে রেড স্যালুট কিষেণজি। কে এই কিষেণজি? যিনি গোমতী থেকে গোদাবরী, আলাদা রাষ্ট্র তৈরির কথা বলতেন, সেই কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেবেন। আর ফ্রি প্যালেস্টাইন? ওই জায়গায় আগে লিখুন, ফ্রি ফ্রি পাক অকুপাইড কাশ্মীর। উচ্চশিক্ষা দফতর দেখছে। আমিও দেখছি।’