নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ঘটেছে এক লজ্জাজনক পরিস্থিতি। এর মতো ঘটনা সমাজের বুকে অহরহ ঘটে চলেছে। এজন্য নাগরিক হিসেবে আমাদেরই লজ্জা করে! যৌন নির্যাতন সমাজের বুকে এক কলঙ্ক। এই কলঙ্ক যদি এক তিন বছরের শিশুকন্যার উপর হয়, এরচেয়ে বেদনাদায়ক আর কিছু নেই। ঘটনাটি কী?
দিল্লির বাওনায় তিন বছরের এক নার্সারী পড়ুয়াকে যৌন নির্যাতন করে ওই স্কুলটিরই ক্যাব চালক। অভিযুক্তের নাম বিকাশ। অভিযুক্ত ক্যাব চালক আট মাস ধরে ওই স্কুলটিতে ক্যাব চালাচ্ছেন। নিগৃহীতা শিশুটির সাথে ওই অভিযুক্ত প্রথমে লজেন্স খাইয়ে তার সাথে ভাব করে। এরপর লজেন্সের লোভ দেখিয়ে তার সঙ্গে আপত্তিকর কাজকর্ম করত। কখনো তাকে কাছে টেনে নিত। কখনো তার শরীরে আপত্তিকর ভাবে হাত দিত। এই খবর পুলিশ সূত্র মারফত পাওয়া।
এরপর ওই শিশুটির আচরণে পরিবর্তন হতে থাকে। ওই পরিবর্তন শিশুটির মায়ের চোখ এড়ায়নি। তিনি শিশুটিকে এই আচরণে পরিবর্তনের কথা জিজ্ঞেস করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শিশুটি তার মাকে স্কুলের 'খারাপ আঙ্কেল'র কথা বলে। সে জানায় ওই আঙ্কেল তাকে চকলেট দিত। তবে, সে কোনও নাম বলতে পারেনি। অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে এব্যাপারে সবকিছু জানান।
গত ২৪ আগস্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে বিভিন্ন ছবি ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখায়। শিশুটি সিসিটিভি দেখে ওই অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। করা হয় 'প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস' (পকসো) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি এফআইআর (FIR)। পুলিশ স্কুল-চত্ত্বর থেকেই বিকাশকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, 'সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি পকেটে চকলেট নিয়ে স্কুলের চত্বরে ঘোরাফেরা করছে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটি যখন ওয়াশরুমে যাচ্ছিল তখন সে তাকে অনুসরণ করে, চকলেট দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং সিঁড়ির নিচে নিয়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়।'
পুলিশ অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করে। ওই মোবাইলে অন্যান্য ছোট শিশুকে চকলেট দেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও পাওয়া গেছে। তদন্তের জন্য স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজটি পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।