নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: দল ছেড়েছিলেন কুড়িজন সাংসদ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দল ছাড়া ওই কুড়িজন সাংসদ যোগ দেন 'এনসিপিআই'তে। এই ঘটনাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেন, তা যথেষ্ট চমকপ্রদ! তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে তাঁদের নামে অভিযোগ জানান। তিনি বলেন 'ওই ২০জন সাংসদের সদস্যপদ বাতিল করতে হবে।'
এই ঘটনা বাদল অধিবেশনের সময়। অধিবেশন কেটে গেলেও লোকসভার স্পিকারর ওম বিড়লা ওই কুড়িজন দলত্যাগী সাংসদের বিরুদ্ধে কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওম বিড়লা ও ওই কুড়িজন সংসদ এবং লোকসভার জেনারেল সেক্রেটারির বিপক্ষে অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার আইনজীবী হিসেবে, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর আবেদন, স্পিকার যেহেতু সাংবিধানিক পদাধিকারী, তাঁর উদ্দেশ্যে নোটিস জারি করবেন না।' সেই আবেদন মেনে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলায় স্পিকারের অবস্থান জানতে চেয়ে কোনও নোটিস দেয়নি শীর্ষ আদালত। এছাড়াও, নোটিশ দেওয়া হয়নি সেক্রেটারি জেনারেলের উদ্দেশ্যেও।
তুষার মেহতা বলেন, 'এনসিপিআই সাংসদদের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী সাংসদ পদ খারিজের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন লোকসভার স্পিকার। অভিষেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাংসদদের বক্তব্য জানতে চেয়ে ২০ জনকে স্পিকারের তরফে আলাদা নোটিস ইস্যু করা হয়েছে।' বলে এদিন প্রধান বিচারপতির এজলাসে জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
অভিষেকের দায়ের করা মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, 'সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্পিকার সিদ্ধান্ত নিন। এই বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। ফলে একজন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য না শুনে, সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।' এই মামলায় এনসিপিআই-র কুড়ি জন সংসদের উদ্দেশ্যে নোটিস জারি করেন।তবে, স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের উদ্দেশ্যে নোটিশ জারি করেননি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ১৪দিন পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'সুপ্রিম কোর্ট আজ ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন নিয়ে নোটিস ইস্যু করেছে। তুষার মেহতা স্পিকারের হয়ে উপস্থিত ছিলেন। ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে নোটিস ইস্যু হয়েছে। এই তো সবে খেলা শুরু। বলতে গেলে, হয়নি কিছুই। আইন আমাদের পক্ষে এতটাই, ২০ জন সাংসদ মিলে এতটাই বেআইনি কাজ করেছে, এখন স্পিকার ফেলে রেখে দিয়েছেন, এটা যে কত বড় অসাংবিধানিক কাজ, তা সবার কাছে স্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্ট নিজেই নোটিস ইস্যু করেছে। অনেকদিন পর একটা মামলায় মুখ খুলতে হল না।'