"প্রেমেতে মজিলে মন..." প্রেমে পড়লে মানুষ কিনা করতে পারে। ভালোবাসার কাছে তখন সবটাই তুচ্ছ মনে হয়। ভালোবাসার টানে অল্প বয়সেই প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিল নাবালিকা। চুটিয়ে প্রেম, আর সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও সে জানতো না তার জীবনে নেমে আসতে চলেছে করুণ পরিণতি। প্রেম, বিয়ে এবং সুখের সংসার ছিল যার চোখে সেই বিক্রি হলো অবশেষে? সুখের সংসার গড়ার আগে সোনাগাছিতে বিক্রি হয় ওই নাবালিকা বলে অভিযোগ। অবশেষে পতিতালয়ের ঠাঁই নাবালিকার। আর এমন ঘটনা ঘিরে রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের টোল ফ্রি নাম্বারে ফোন আসতেই তাজ্জব বনে যান পুলিশ অফিসাররা।
শুক্রবার ১০০ ডায়ালে ফোন আসতেই তৎপর হয় কলকাতা পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই সোনাগাছির একটি ঘর থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করে বড়তলা থানার পুলিশ। তার প্রেমিক বাবুল ওরফে সফিকুল মোল্লা এবং সফিকুলের সঙ্গী শাহরুখ ওরফে সাহারুল লস্করকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফের রাজ্য জুড়ে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। একদিকে যখন রাজ্য সরকার নারী নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর, তখন প্রেমিকের বিরুদ্ধে প্রেমিকাকে পতিতালয়ে বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ আচমকাই ১০০ ডায়ালে একটি ফোন আসে। পরে চাইল্ড হেল্পলাইনে ইমেলও পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, ‘এক নাবালিকাকে সোনাগাছিতে নিয়ে আসা হয়েছে। এর পরেই অভিযানে নামে বড়তলা থানার পুলিশ। খুব সন্তর্পনে অভিযান চালিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরো খবর, অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিটের ১৯ নম্বর বাড়ির একটি ঘর থেকে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন পুলিশকর্মীরা। ১০০ ডায়ালে ফোন করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর পরিচয়ও নিশ্চিত করেন তদন্তকারীরা।
উদ্ধারের পরে মহিলা পুলিশ আধিকারিককে গোটা ঘটনার কথা খুলে বলে নাবালিকা। তাতে জানা গিয়েছে, নাবালিকার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায়। বাবুল নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেম ছিল তার। তার সঙ্গেই ঘর ছেড়ে সে কলকাতায় আসে। অভিযোগ, সোনাগাছির শাহরুখ নামে এক ব্যক্তির কাছে তাকে বিক্রি করে দেয় বাবুল।
এর পরেই অভিযুক্তদের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়ে, দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ। ধৃত শাহরুখের বাড়ি দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিটে। অন্য দিকে, বাবুল উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের গারুলিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। জেরায় দু’জনেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ ভালোবাসার প্রলোভন দেখিয়ে, এমন আর কতগুলি ঘটনা ঘটিয়েছে অভিযুক্তরা তার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পুলিশের তরফে সচেতন করা হয়েছে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশে জানানোর জন্য।
প্রেম ভালোবাসা ও সংসার গড়ারা স্বপ্ন। তারপর এই করুণ পরিণতি। এই ঘটনা আবারও এখন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে মেয়েদের। সিদ্ধান্তের আগে সর্বদা উচিত সচেতনতা অবলম্বনের।