কলকাতা, কেয়া মণ্ডল:জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি জানান, জাতীয় গান নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবস্থানের সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ একমত। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস এবং তাদের জোটসঙ্গীরা দীর্ঘদিন ধরে ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ করে আসছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাইতে অস্বীকার করে কংগ্রেস ফের একবার ভারতের জাতীয় ঐতিহ্য, সংসদের মর্যাদা এবং বাংলার গর্ব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করেছে। এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল একটি পবিত্র স্লোগান, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তাঁর বক্তব্য, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে জাতীয় গানকে খণ্ডিত করা শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা নয়, দেশের সাংস্কৃতিক আত্মার প্রতিও সরাসরি অপমান।
শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের জাতীয় প্রতীক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি ‘অবহেলা’ তাদের রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রমাণ। তাঁর দাবি, এই রাজনীতি মূলত সুবিধাবাদী তুষ্টিকরণের উপর নির্ভরশীল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জাতীয় গান ও দেশের জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি এই ধরনের অসম্মান দেশের মানুষ কখনও মেনে নেবে না। ‘বন্দে মাতরম’কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই শুভেন্দুর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি করল।
সম্প্রতিই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
তিনি বলেন, 'গতকাল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একটি দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের ১৯৩৭ সালের প্রস্তাব অনুসরণ করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হবে। আমি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ১৯৩৭ সালে মুসলিম তোষণের জন্য বন্দে মাতরমকে বিভক্ত করে কংগ্রেসই দেশের বিভাজনের ভিত্তি তৈরি করেছিল।'
শাহের বক্তব্য, বর্তমান নরেন্দ্র মোদী সরকার জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে কংগ্রেসের সেই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করেছে এবং আইনগত কাঠামো প্রদান করেছে।
সরকার জাতীয় ঐক্য আরও বাড়ানো এবং শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে বন্দে মাতরম গানটি পুরো গাওয়া বাধ্যতামূলক করে। কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্তকে মানছে না।