অকথ্য অত্যাচার হয়েছিল তাঁর ওপর। দোষ কী ছিল? তাঁর একমাত্র দোষ ছিল তিনি বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণ কাঁথির ৪নং মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক। তখন রাজ্যে শাসকদলের আসনে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই শাসকের আঙুলের ইশারায় তাঁকে থানায় এনে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। অত্যাচারে জর্জরিত হন রঞ্জন দাস। ঘটনাটা ঘটেছিল ২০২২ সালের পুরভোটের ঠিক আগে!
এরপর রাজ্য রাজনীতির পালাবদল ঘটে। ৪ঠা মে তৃণমূল কংগ্রেসকে গদি থেকে হঠিয়ে মসনদে বসে বিজেপি। এরপর এক এক করে দুর্নীতিগ্রস্থ তৃণমূলের নেতাদের খুঁজে খুঁজে চলছে থাকে 'জেল ভরো অভিযান'। সেই অভিযানে যেমন শীর্ষ নেতৃত্ব ধরা পড়েছে,তেমনই ধরা পড়েছে মাঝারি এবং ছোট মাপের নেতা এবং কর্মীরাও। জনগণ যাদের ওপর প্রয়োগ করেছে 'ডিম থেরাপি'। একই সাথে রাজ্য জুড়ে চলতে থাকে প্রশাসনিক স্তরে সংশোধন এবং রদবদল। এর সবথেকে বড় উদাহরণ আইপিএস দময়ন্তী সেন। অভয়া কান্ডে যাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন সরকার তৃণমূল কংগ্রেস। তাকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বিজেপি সরকার একটা বার্তা দিয়েছিল যে প্রশাসনিক স্তরে আর কোন দুর্নীতি বা অন্যায় সহ্য করা হবে না। এই সূত্রেই নাম ওঠে ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসের।
অমলেন্দু বিশ্বাস--বিজেপির ওই কার্যকর্তা এবং নেতা রঞ্জন দাসকে অত্যাচার করেছিলেন। এছাড়াও রসুলপুর বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া অঞ্চলে রঞ্জন দাসের দোকানও বন্ধ করে দেন তিনি। রঞ্জনবাবুকে মারাত্মক ভাবে মারধর করেছিলেন ওই অত্যাচারী ইন্সপেক্টর। তাকে সাহায্য করেন আরও চারজন পুলিশকর্মী। এই ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। কৃষ্ণনগরে দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকার সময় জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনে স্থানীয়দের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করেন তিনি। এছাড়াও ওই ঘটনাতে অশালীন মন্তব্যও করেছিলেন তিনি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিজেপি সরকার তাকে সাসপেন্ড করে। সেই অমলেন্দু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন অত্যাচারীত ওই বিজেপি নেতা। তার এবং বাকি চার পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন রঞ্জন দাস। পুলিশ সূত্রের খবর,দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।