দক্ষিণ ২৪ পরগনার, নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিনের মতো স্কুলে এসেছিলেন পড়ুয়ারা। কিন্তু দিনের মাঝে পরিস্থিতি বদলে গেল। একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে স্কুল চত্বরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত অভিভাবক ও পড়ুয়াদের বিক্ষোভ সামাল দিতে স্কুলে পৌঁছতে হয় পুলিশ কেও। ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্কুলের পরিকাঠামো এবং পড়ুয়াদের জন্য থাকা বিভিন্ন পরিষেবা।
ঘটনাটি বারুইপুর ধবধপি হাই স্কুলের। অভিযোগ, স্কুলের মিড ডে মিলের রান্নাঘরের পরিবেশ যথেষ্ট অপরিচ্ছন্ন। রান্নার জায়গায় নিয়মিত আরশোলা ও টিকটিকি ঘুরে বেড়ায় বলে দাবি অভিভাবকদের। তাই নয়, রান্না করা খাবারের মধ্যেও পোকামাকড় পড়ার অভিযোগও রয়েছে। এই বিষয়টি সামনে আসার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন একাধিক অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রী। তাঁদের আরও অভিযোগ স্কুলের শৌচালয়ের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত খারাপ। কোথাও দরজা নেই, কোথাও আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের শৌচালয় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয়। পানীয় জলের ব্যবস্থাও ঠিকঠাক নয় বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। এছাড়াও স্কুলের একাধিক কল খারাপ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এই সমস্ত বিষয় নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি অভিভাবকদের অধিকাংশের। এরপরই স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের কথা জানান তাঁরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে খবর যায় পুলিশের কাছে। এরপর বারুইপুরের সূর্যপুর ক্যাম্পের পুলিশ স্কুলে যান। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ মেনে নেননি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড: কল্যাণ পান্ডে। তিনি বলেন মিড ডে মিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দেওয়া হয় না। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অভিযোগ তিনি এদিনই জানতে পেরেছেন। একই সঙ্গে শৌচালয়ের সমস্যা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জানিয়েছেন তিনি। অভিভাবকদের অভিযোগ এবং প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, এই দুইয়ের মাঝে এখন প্রশ্ন স্কুলের পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানীয় জল ও নিরাপদ সৌচালয়ের মতো মৌলিক পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে।