কলকাতা,নিউজ ডেস্ক: একদিকে টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস, অন্যদিকে ঘটে গিয়েছে ফুটপাথ কান্ড। এই দুইয়ের মাঝেই যে ওঠা পড়া সেই ওঠা পড়ার সাক্ষী তিনি,বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। আজ টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মঞ্চ নির্মাণ তদারকি করতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করে। বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি বেশ কিছু মন্তব্য করেন।
ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল শিবির।তৃণমূল শিবিরের দুটি শিবির দু'রকম ভাবে দুই জায়গায় ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করবে। এই নিয়ে উঠেছিল বিতর্ক। সেই ক্ষেত্রে ২৮শে আগস্ট টিএমসি পির ছাত্র পরিষদ দিবস উপলক্ষে যে বিতর্ক উঠেছিল,সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন 'বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখবেন। উনি যেখানেই বক্তব্য রাখবেন সেখানেই তৃণমূলের সভা। অন্য কোন শিবির, বালিশ-ফালিশ এর কথা বলে লাভ নেই। আদালত যা অর্ডার দিয়েছে, আমরা সেই অনুযায়ী করব। আমরা সেই জায়গাটাই দেখতে এসেছিলাম এটা নিয়ে দোলা সেন আমি এসেছিলাম, দেখে গেলাম। আশা করব ছাত্র সমাবেশে প্রচুর মানুষ আসবেন।'
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন 'আজ ইনস্পেকশন হল,কাল ইনস্পেকশন হবে। তারপর যেদিকে কমফোর্টেবল হবে, সেদিকেই করব। আমরা আইন মেনে,নিয়ম মেনে সবকিছু করছি।' অন্য শিবিরের টিএমসিপি প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন 'ওদের কোন ভিত্তি নেই। ওরা কেউ কোনদিন ওসব করেছে! ঋতব্রত এসএফআই করত।সে আবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভায় কি করবে? ওর কোন অধিকার আছে বলবার?ও তো তৃণমূলকে গালাগালি করত!তার কি অধিকার আছে?'
এর পরের প্রসঙ্গে ফুটপাত কাণ্ড নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন 'এটা অমানবিক ঘটনা ঘটেছিল।একটা বাচ্চা-তার মা দুধ গরম করছে, সেখানে বিজেপি মন্ত্রী বলছে দুধ গরম করতে দেব না।বাচ্চার মুখে দুধ দিতে দেবেনা! এটা কোন ধরনের আইন হলো! এরকম হম্বিতম্বি চলবে?
সাংবাদিকরা এরপর জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মমতাকে নির্দেশ করে কিছু কথা বলেছেন, যা তার পক্ষে অবমাননাকর। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন 'উনি ইতিহাস জানেন না। যখন গোবিন্দপুর কলোনির লোকেদের তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখনও মমতা ব্যানার্জি ছুটে গেছেন। মমতা ব্যানার্জির সবসময় গরিব মানুষ প্রান্তিক মানুষের পাশে ছিলেন,আছেন। তাই মমতা ব্যানার্জীর ওর কাছ থেকে নেওয়ার কিছু নেই। বরং উনি মমতা ব্যানার্জীর কাছ থেকে কিছু নিলে ধন্য হয়ে যাবেন।
এই কথাই প্রমাণ করে দিয়েছে, তৃণমূল শিবির দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেলেও; তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা এখনো কালীঘাট তৃণমূলের অধিশ্বরী ,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সৈনিক এখনও লড়ে যাচ্ছেন।