বাংলায় ১৫ বছর পর ক্ষমতার পালাবদল। তৃণমূলকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু, দিনহাটা হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের ভয়াবহ পরিস্থিতি এখনও রয়েছে বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি দূর করতে উদ্যোগ নিতে কি আরও কিছুটা সময় লাগবে?
এই প্রশ্নের উত্তরে দিনহাটার বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় জানিয়েছেন, 'ইতিমধ্যেই আমি স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে কথা বলেছি। দিনহাটা হাসপাতালের যে সমস্যাগুলি রয়েছে, সেগুলি নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং লিখিতভাবেও জানিয়েছি। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও আমি নিজে গিয়ে মাঝেমধ্যে তদারকি করি। হাসপাতালটি অনেক পুরনো হওয়ায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। টয়লেটগুলির পরিস্থিতিও অত্যন্ত খারাপ।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন বিল্ডিং, স্টোররুম, ড্রেন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাও দীর্ঘদিনের পুরনো। হাসপাতাল তৈরির সময় যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, এখনও অনেক ক্ষেত্রেই সেটাই রয়েছে। ফলে পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকার এখনও মাত্র তিন মাসের। তবে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এই মহকুমার অন্যতম বড় হাসপাতাল এটি। মূল লক্ষ্য হল, গ্রামের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত এবং ভালো পরিষেবা পান।
পাশাপাশি, পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যদের একের পর এক পদত্যাগের বিষয়ে বিধায়ক
অজয় রায় বলেন, ‘অনেক জায়গাতেই পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের সময় মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এখন তাঁরা বুঝতে পারছেন যে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের কৈফিয়ত দিতে হবে। ভোটের ফলাফলের পর অনেক পঞ্চায়েত প্রধান ও নেতা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের ভয়ে এলাকায় নেই। যে কাটমানি তাঁরা নিয়েছেন, সেই টাকা ফেরত দিতে হবে—এই ভয়ও তাঁদের মধ্যে রয়েছে। আমরা বারবার বলছি, আপনারা ফিরে আসুন, পঞ্চায়েতে বসুন এবং সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিন। কিন্তু তাঁরা যদি অন্যায় ও দুর্নীতি করে থাকেন এবং সেই কারণে ভয় পান, তার দায় আমাদের নয়।’