কেটে গিয়েছে প্রায় কুড়ি বছর! কিন্ত 'সেই পরিস্থিতি' এখন স্থির হতে চলেছে, যে পরিস্থিতির জেরে নির্বাসিত হতে হয়েছিল তসলিমা নাসরিনকে।আবার এই বাংলার বুকে ফিরে এলেন 'বিদ্রোহের ফিনিক্স পাখি'।তাঁর 'লজ্জা' উপন্যাস নিয়ে হয়েছিল চরম বিতর্ক। বাঙালি সাহিত্যিক সমাজ হয়েছিল 'দ্বিখন্ডিত'।সেইসময় তসলিমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন গুটিকয়েক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। তসলিমার নামে জারি হয়েছিল মুসলিম মৌলবাদীদের 'ফতোয়া'।
আজ দমদম বিমানবন্দরে তিনি যখন নামলেন,লালপাড় সাদা শাড়িতে তাঁর বাঙালিয়ানা এবং সাবেকিয়ানা-র সংস্কৃতি ফুটে উঠল বরাবরের মত। চোখে রোদচশমার রং প্রমাণ করে দিল তিনি ক্লান্ত তসলিমা সমর্থন পরাজিত নন।তাঁকে অভ্যর্থনার জন্য উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বিধায়ক সৌরভ শিকদার। আজ এবং আগামীকাল,দুদিন তাঁর 'প্রাণের আরাম' এই মহানগরীতে থাকবেন তসলিমা নাসরিন। কাল প্রকাশিত হতে চলেছে তাঁর একটি উপন্যাস। সেই উপলক্ষ্যে 'রবীন্দ্র সদন' আলো করে বক্তব্য রাখবেন এই 'ঘর খুঁজে চলা' লেখিকা।সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ছাত্রদের বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি
তবে, এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁকে তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন-- 'কলকাতাতে অনেক লোক আসে।সারা পৃথিবীর লোক আসে।সিটি অফ জয়। এটা বন্ধ করে ছিল সিপিএম-টিএমসি। তখন তাদের আসতে দিত,যারা তাদের পক্ষে বলবেন।'
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে তসলিমার এই নির্বাসনের ঘটনায় রাজ্য বিজেপি এবং প্রশাসনিক কার্যকর্তারা দুঃখিত। তাঁরা চান তসলিমা এই রাজ্যে ফিরে আসুন। যে প্রতিভার দাম আগের দুই সরকার দিতে পারেনি সেই দাম বর্তমান সরকার দিতে চায়। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের সংযোজন 'এখন লোকতন্ত্রের যুগ।এখন যারা এখানে কার্যক্রম করতে চান;সঠিক ভাবে আবেদন করলে--যদি সমস্যা না হয়,সরকার অনুমতি দেবে।যাদের মানার তারা থাকবেন" দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য আশা দেখাচ্ছে বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য সাধারণ প্রতিভার লেখিকাকে।




