কলকাতা,নিউজ ডেস্ক: সামনেই বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ পুজো দুর্গাপুজো। এই দুর্গাপূজো নিয়ে বাঙালির মধ্যে যে আবেগ সেই আবেগের সম্মানে বক্তব্য রাখলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তার বক্তব্যে উঠে এলো পুজোর আড়ম্বর বনাম পুজোর ভক্তি-শ্রদ্ধার দিকগুলি। যেখানে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মানুষের হৃদয়ের আবেগ তার আড়ম্বর এবং জাঁকজমকে পর্যবসিত হয়েছে। সেটি কাম্য নয়। এমনটাই সুর দিলীপ ঘোষের গলায়।
আর বক্তব্যে উঠে এল বিশেষত কমিউনিস্টদের প্রতি বিষোদগার। তিনি এও জানান যে, কমিউনিস্টদের জন্যই পূজোর যে ভক্তি শ্রদ্ধা কোথাও গিয়ে শুধুমাত্র আড়ম্বরেই এসে ঠেকেছে। তার মূল কথা, হলো মানুষের ভক্তি শ্রদ্ধার প্রতি মানুষকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। মানুষ টাকা হলে আড়ম্বর করে। কিন্তু ভক্তি-শ্রদ্ধা শুধুমাত্র হৃদয় থেকেই আসে।
সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন 'আড়ম্বর হতে আপত্তি নেই। লোকে বিয়েতেও বিশাল আড়ম্বর করে। বিয়ের যে মন্ত্র, রীতিনীতি তা পন্ডিতমশাই করেন। বিয়ে হল পবিত্র একটি অনুষ্ঠান। সেখানে আড়ম্বর,খাওয়া দাওয়া মানুষ টাকা হলে করে। পুজোটাই হারিয়ে যাচ্ছে। কমিউনিস্টরা পূজোর নামটাই তুলে দিয়েছিল।
যারা পুজো করেছেন তারা দুর্গাপুজো হিসেবেই করুন। পুজোর পরিবেশ ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে হওয়া উচিত। এখন রীতিমতো পুরোহিতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যাতে সঠিকভাবে রীতি নীতি মেনে পুজোটা হয়। আর আড়ম্বর নিয়ে কি হবে? কমিউনিস্টরা এটাকে বিপথগামী করেছে। থিমের নামে পুজোটাই আজ হারিয়ে গেছে।'
দিলীপ ঘোষের লক্ষ্য কোথাও গিয়ে থিম এবং জাঁকজমকের পুজো গুলির ওপরেও পড়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, বিগত সরকারের আমলে থিমের পূজায় অত্যধিক দুর্নীতি এবং অর্থ নয়ছয়। এর কারণে একটা সময় এমন দেখা গিয়েছে যে,এর ফলে রাজ্যের অনেক মানুষের জীবন জীবিকা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বিশেষত ধর্মের নামে মানুষের খিদের বস্তু এবং কোথাও গিয়ে রুজি রোজগারও ছাপ ফেলেছে এই আড়ম্বরের নামে আগ্রাসন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায;,আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে,দুর্গাপূজায় 'টালা প্রত্যয়' দুর্গোৎসবের রাস্তার সামনের এক গরিব ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে একরকম মারধর করেই তুলে দেওয়া হয়েছিল।