কলকাতা, অঙ্কন দাস: আজ (১৯শে অগাস্ট,২০২৬) ভোররাতে তালতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আচমকাই আগুন লাগে। হোটেলটির নাম
'শিখা ইন', দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে দমকল। অবশেষে ওই চারটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।সূত্র জানাচ্ছে, মৃতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ,দু’জন মহিলা এবং একজন শিশু৷ আগুন কীভাবে লাগল, তা এখনও ধোঁয়াশা শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণে এই অগ্নিকাণ্ড, তাও খতিয়ে দেখছে দমকল ও পুলিশ। হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কি না! সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী প্রশ্ন তুলছেন, ‘ এই ধরনের হোটেলগুলো ট্রেড লাইসেন্স পেল?’
তিনি আরও বলেন 'এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। নিহতরা ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং বাংলাদেশের বাসিন্দা। আমরা নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। ভবনের ভেতরের অবস্থা খুব খারাপ। এই ভবনের ভেতর বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। এখানে যা চলছিল, তা দেখে আমি স্তম্ভিত।' ভবন কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম নিরাপত্তা ও নির্মাণবিধি মেনে চলেনি। হোটেলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ কিছু অনিয়ম ছিল।'
এই ব্যাপারে ভারতের বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মহম্মদ খালেদ বলেন ‘ আপনারা দেখেছেন যে আমি পুলিশের সাথে কথা বলেছি। পুলিশ জানিয়েছে এখনও পর্যন্ত নয়জন মারা গিয়েছে। এর মধ্যে একজনের মাত্র আইডেন্টিফিকেশন করতে পেরেছে - ঝাড়খণ্ডের অধিবাসী। বাকি আটজনের আইডেন্টিফিকেশন এখনও করতে পারেনি। আমাদের ধারণা তারা বাংলাদেশি। এদের মধ্যে দুইজন মহিলা এবং একজন শিশু। আইডেন্টিফিকেশন প্রক্রিয়া চলছে। আইডেন্টিফিকেশন হলে অফিসিয়ালি জানাবে। তখন আমরা আপনাদের জানাবো। আমরা ডেড বডি রিপারকেশন করব। আমাদের দূতাবাস ২৪ ঘণ্টা যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের জন্য খোলা থাকবে আমরা তাদের আত্মীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আর, বডি গুলো আইডেন্টিফিকেশন হয়ে গেলে বাংলাদেশে নিয়ে যাব। তাদের পরিবারের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যোগাযোগ রাখছে।’
হোটেল ম্যানেজার নাম বীরেশ্বর মিত্র এবং আবু জাফর। বীরেশ্বর মিত্রের বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার বেহালার ৩ নম্বর রায়বাহাদুর রোডে। আবু জাফর থাকেন কলিন রোড এলাকায়। তারা ম্যানেজার হলেও লিজ নেওয়ার জন্য, তাদের এই হোটেলে মালিকানার ক্ষমতা ছিল। আরও জানা যাচ্ছে, বীরেশ্বর মিত্রের আরেকটি হোটেল রয়েছে ওই বিল্ডিংয়ে।সেই সূত্র ধরেই সকালে বেহালা থানার পুলিশ ও নিউমার্কেট থানার পুলিশ যৌথভাবে বেহালার ওই আবাসনে পৌঁছে তল্লাশি করে। পুলিশের তল্লাশিতে ফ্ল্যাটের ভিতরে বীরেশ্বর মিত্রকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, ‘বীরেশ্বর মিত্রের দুটি গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি গাড়ি নিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে অনুমান। অন্য একটি গাড়ি এখনও ফ্ল্যাটের নিচে রয়েছে।’