শুক্রবার কলকাতায় পা ফেলার আগে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নজর রাখা জরুরি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এদিন দিনের দুটি নির্দিষ্ট সময়ে তিলোত্তমায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে জারি হয়েছে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই কলকাতার আকাশে মেঘের দাপট বাড়বে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। শুক্রবার সকালে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের গর্জন শোনা যেতে পারে। তবে আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তন ঘটবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে।
দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যে শহরে আছড়ে পড়তে পারে বৃষ্টির সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেল। সেই সময় প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা ভারী বজ্রবৃষ্টিতে ভিজতে পারে। ফলে নিত্যযাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সাথে ছাতা বা রেইনকোট রাখা জরুরি। বিকেল সাড়ে চারটের পর থেকে বৃষ্টির দাপট কমতে শুরু করবে এবং সন্ধ্যার পর আবহাওয়া কিছুটা শান্ত হবে। এদিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। বাতাসে অত্যধিক আর্দ্রতার (৮১% - ৯৩%) কারণে প্রকৃত অনুভূতিক তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে।
উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় বর্ষার প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কার পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বৃষ্টি কিছুটা কম হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব কমলেও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনায় দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে বিকেলের পর বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে মৎস্যজীবীদের সাগরে যাওয়ার ওপর নতুন কোনো বিধিনিষেধ নেই, তবে শুক্রবারের এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।