কলকাতা, নিউজ ডেস্ক- এতদিন অনেক কিছুই থেকে যেত লোকচক্ষুর আড়ালে। কোন বাড়িতে কি ঘটনা ঘটছে, তার কথা প্রশাসনের কাছে অনেক সময় দেরিতে পৌঁছত। কিন্তু এবার সেই ছবি বদলাতে চলেছে। কোনও বাড়িতে আচমকা হাজির হতে পারে প্রশাসনের বিশেষ দল। কোথাও কোনও গোপন আয়োজন চলছে কি না, কোনও নাবালিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কি না, সবই এবার খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু, কি কারনে এই বাড়তি তৎপরতা, তা জানতে উৎসুক সকলে।
বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পশ্চিমবঙ্গে এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। নাবালিকাদের বিয়ে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মা হওয়ার প্রবণতা রুখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাল্যবিবাহ প্রবণ এলাকা গুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোনও নাবালিকার বিয়ে ইতিমধ্যেই হয়েছে কি না, কিংবা কোথাও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এমনকি, ইতিমধ্যেই যেসব নাবালিকার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের নজর থাকবে। তাঁদের স্বামীদের শোকজ নোটিশ দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্বামীর বিরুদ্ধে POCSO আইনে মামলা করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের যারা সহযোগিতা করে, তাঁদের বিরুদ্ধেও এবার কড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। নাবালিকার বিয়েতে পুরোহিত, মৌলবি বা কাজী বিবাহ সম্পন্ন করে রেজিস্টার এর কাজে যুক্ত হলে, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কারাদন্ডের মুখেও পড়তে পারেন সংশ্লিষ্টরা।
এর পাশাপাশি, বাল্যবিবাহে যুক্ত পরিবার বা ব্যাক্তিদের সরকারি ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বন্ধ করার বিষয়েও কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলায় নজরদারি বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ভারতে মেয়েদের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। এই বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য শুধু বাল্যবিবাহ আটকানো নয় বরং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এখন, বাল্যবিবাহ রুখতে সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর।