কাঁথি, অঙ্কন দাস: পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি। এখানেই অবস্থিত 'শান্তিকুঞ্জ।' আরও ভালো করে বলতে গেলে, এই বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের সব থেকে 'পাওয়ারফুল' বাড়ি; অধিকারী বাড়ি। সেখানেই গিয়ে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন জুন মালিয়া। শান্তিকুঞ্জে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। তবে, তাতে সৌজন্যে কম কিছু হয়নি। এদিন তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন মেদিনীপুরের সাংসদ। এরপর এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখলেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজের সাংসদ তহবিল থেকে এগরার উন্নয়নের লক্ষ্যে 'দেড় কোটি টাকা' সাহায্যও করেন মেদিনীপুরের সাংসদ।
এই মুহূর্তে জুন মালিয়া ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি’ (এনসিপিআই)-র সদস্য। বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ তিনি। তৃণমূলড ৩থেকে বেরিয়ে ২০ জন সাংসদ ‘অখ্যাত রাজনৈতিক দল' এনসিপিআই-তে মিশে গিয়েছেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, তাঁদের অন্যতম। তবে, তাদের এখনও স্বীকৃতি দেননি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। খাতায়কলমে তাঁরা তৃণমূল সাংসদ! কিন্তু, প্রকাশ্যে তাঁরা বারবারই দাবি করেছেন, তাঁরা এখন 'এনডিএ জোট শরিক'। এই অবস্থায় জুনের শান্তিকুঞ্জে যাওয়ার পিছনে বড় চমক দেখছেনা রাজনৈতিক মহল। জুনের কথায়, 'এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। শিশির-সহ গোটা অধিকারী পরিবার এক সময় তৃণমূলের সঙ্গে ছিল। সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী; সবই ছিল অধিকারী পরিবার থেকে। তবে সময়ের কালে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে গিয়েছে।' সেই অধিকারী পরিবারের প্রধান শিশির অধিকারীর থেকে আশীর্বাদ নেন জুন। শিশির ছাড়াও শুভেন্দুর মা গায়ত্রী দেবী আশীর্বাদ করেন মেদিনীপুরের সাংসদকে। শান্তিকুঞ্জে আসার কারণ হিসেবে জুন বলেন, 'শিশিরবাবু অভিজ্ঞ রাজনীতিক। ওঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হল। মানুষের জন্য মন খুলে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।’
মেদিনীপুর সংসদীয় এলাকার মধ্যে পড়ে এগরা। এখানে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গা জলমগ্ন। বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতেই তাঁর এগরা যাওয়া বলে জানিয়েছেন জুন। শান্তি কুঞ্জের আরেক সদস্য; দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, 'বিধায়ক-সাংসদ মিলে কাজ করলে ভাল হয়। আমরা কোনও রাজনীতি করতে আসিনি। এটাই মানুষকে বোঝাতে চাই।' শান্তিকুঞ্জে জুনের আসার পিছনে কোনও রাজনীতি দেখছেন না দিব্যেন্দু অধিকারী।