অভিযোগ ছিল আগেই কিন্তু গ্রহণ করা হয়নি কোনো পদক্ষেপ। সরকার বদলের পরে কড়া হাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশ। এমনটাই বলছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার অভিযানে শুক্রবার সল্টলেকের সুকান্তনগরের একটি গেস্ট হাউস থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েকজন মহিলা ও নাবালিকাকে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সায়ন দে এবং অনির্বাণ নামে আরো এক ব্যক্তিকে।
দীর্ঘদিন আগে থেকেই ওই গেস্ট হাউসকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ আসছিল পুলিশের কাছে। দেহব্যবসা ও নাবালিকাদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করোনোর অভিযোগ ওঠে। তদন্তকারীরা গেস্ট হাউসের নথিপত্র সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য নথিও খতিয়ে দেখছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, বিধাননগর দক্ষিণ থানায় বহুবার তারা অভিযোগ জানিয়েছে কিন্তু কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।সায়ন দে রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের করা অভিযোগ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক পালা বদলের পর পুলিশ সক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির বিধাননগর মন্ডল ২-এর সহ-সভাপতি শান্তনু সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সায়ন দে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি, জমি দখল সহ নানা বেআইনি কাজে কাজ করেছে। বছর দুয়েক আগে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় অভিযোগকারীদের উল্টে ধমক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন তাদের সরকার আসার পর পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সায়ন দে। তার দাবি, পুলিশের কাছে কোন প্রমাণ নেই গেস্ট হাউস আদেও তার মালিকানাধীন কিনা। পুলিশ এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পায়নি। দেখি এখন আগামী দিনে কি হয়।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আরো কারা কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই কার্যকলাপ ঠিক কতদিন ধরে চলছে সেদিকেও নজর দিচ্ছে পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।