তৃণমূল আমলে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের গ্রাফ উঠেছিল চড়চড় করে।নেতার পাশাপাশি,অভিনেতা এবং সবথেকে বড় কথা কাজের মানুষ হিসেবেও এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন। ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলে চূর্ণবিচূর্ণ হলে, তারও কেরিয়ার ভেঙেচুরে খানখান হয়ে গিয়েছে। এরপর নেত্রীর হাত ছেড়ে অন্য দলে গিয়েছেন অনেকেই। তার মধ্যেই অন্যতম মুখ ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তৃণমূল ছেড়ে পার্থ এনসিপিআই-তে যোগ দেন।
একারনেই হয়তো সাংসদের বিরুদ্ধে 'গদ্দার' লেখা পোস্টারে ছয়লাপ হল তাঁর নিজের এলাকা। তবে প্রশ্ন উঠছে, পোস্টারদাতা কী সত্যিই 'ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের নাগরিকবৃন্দ'? তবে তার থেকেও বড় প্রশ্ন, এই নাগরিকবৃন্দ কি সত্যিই আমজনতা? নাকি পার্থর-ই প্রাক্তন দলের সদস্য সমর্থকরা?নৈহাটিতে সাংসদের বাড়ির কাছে শুক্রবার সকালে প্রচুর পোস্টার দেখা গেল। পোস্টারে পার্থ ভৌমিকের ছবি দিয়ে লেখা - 'এই গদ্দার থেকে সাবধান'।
পোস্টার দিয়েছেন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের নাগরিকরা। এলাকার তৃণমূল নেতা এবং গত বিধানসভা ভোটে ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্ত বলেছেন, ‘‘উনি তো আর তৃণমূলে রইলেন না। তাই তাঁকে 'গদ্দার' বলা হয়েছে। উনি শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গদ্দারি করেননি। ২০২৪ সালে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের লোকজন ৫ লাখ ২০ হাজার ২২১ ভোটে তাঁকে জিতিয়েছেন, বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে। আর উনি সেই বিজেপির সঙ্গে গিয়েই মিশলেন। এই পোস্টারে আসলে দুটো বার্তা আছে। প্রথমত, বারাকপুর লোকসভার মানুষজনকে পার্থ ভৌমিকের ব্যাপারে সতর্ক করা। দ্বিতীয়ত, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বার্তা দেওয়া যে যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্য নিয়ে বিধায়ক, মন্ত্রী থেকে সাংসদ পর্যন্ত হলেন, তিনি যদি আজ এমন গদ্দারি করেন, পরবর্তীতে বিজেপির সঙ্গেও একই কাজ করবেন।'
তবে এই ব্যাপারে বিরুদ্ধ প্রতিক্রিয়া পোস্টারে এমন এলাকার যুব বিজেপি নেতা তথা নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের কাছের লোক প্রিয়াঙ্গু পাণ্ডের। তিনি বলেন ‘রাতের অন্ধকারে পোস্টার দিয়ে গদ্দার বলার কিছু নেই। যা বলার, যাদের বলার, তারা সামনে এসে বলুক। পোস্টার দিয়ে কুৎসা করা তৃণমূলের কালচার। আমরা আর ওসব দেখতে চাই না। আমরা চাই, মানুষ সামনে এসে পার্থ ভৌমিককে যা বলার বলুক।' তবে এনিয়ে এখনও পর্যন্ত সাংসদ কোনও মন্তব্য করেননি।