কলকাতা,অঙ্কন দাস: রাজ্যের সকল সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলা নিয়ে নতুন নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। আদালত জানিয়েছে, 'আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে যে অংশের কর্মচারীরা এখনও বকেয়া ডিএ পাননি তাঁদের তালিকা আজ সুপ্রিম কোর্টে দিতে হবে।' এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রার বেঞ্চ৷ মঙ্গলবার ছিল সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি। এদিন শীর্ষ আদালতের শুনানিতে, রাজ্য সরকার এই ঘোষণা করেছে৷ এদিন রাজ্য সরকারের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা৷ তিনি জানান, 'ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে বকেয়া ডিএ বাবদ ৭হাজার ৭০০কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়ে গিয়েছে।'' তুষার মেহতার এই ব্যাপারে স্পষ্ট জানান ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটির সুপারিশ মতো, ৬৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়ে গিয়েছে। বাকি বকেয়া ডিএ-এর টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’
তবে তুষার মেহতার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে; সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আইনজীবী করুণা নন্দী এবং ফিরদৌস শামিম এদিন দাবি করেন, 'অনেক কর্মচারী এখনও ওই টাকা পাননি। আদালত আগেই জানিয়েছিল, সব সরকারি কর্মচারীকে বকেয়া ডিএ দিতে হবে। কিন্তু সবাই টাকা পাননি।' এই বক্তব্য শুনে বিচারপতি সঞ্জয় করোল বলেন, '৭হাজার ৭০০কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে রিপোর্ট অনুযায়ী৷ তবে যে সব কর্মচারী এখনও বকেয়া ডিএ পাননি তাঁদের তালিকা দেওয়া হোক ৷ মামলাকারীরা সেই তালিকা আদালতের কাছে জমা দিক ৷' বিচারপতির মন্তব্যে মামলাকারীরা প্রশ্ন তোলেন 'মহার্ঘ্য ভাতার টাকা দেওয়া হবে প্রফিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) অ্যাকাউন্টে। কিন্তু ২ বছরের আগে সেই টাকা সরকারি কর্মীরা তুলতে পারবেন না। এই দু'বছরের লকিং পিরিয়ড কেন রাখা হয়েছে?' এই প্রশ্ন শোনার পর এনিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন বিচারপতি সঞ্জয় করোল। তাঁর বক্তব্য 'সুপ্রিম কোর্টের তরফে এই নির্দেশের কথা বলা ছিল না।' সমস্ত বিষয়টি রাজ্যের কাছে জানতে চায় বেঞ্চ৷ আজ আবার এই মামলার শুনানি হবে। তারপরই ওই কর্মচারীদের নিয়ে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নির্দেশ ছিল মার্চ মাসের মধ্যেই বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ সরকারি কর্মীদের দেওয়ার কথা ছিল। এই বকেয়া মেটানোর কথা ছিল রাজ্য সরকারের। বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ মেটানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতিরা। রাজ্যের তরফে সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত বা সরকার পোষিতদের (গ্রান্টস-ইন-এইড) কেন এখনও মহার্ঘভাতা দেওয়া হচ্ছে না? ' রোপা রুল ২০০৯' অনুয়ায়ী, এই ব্যাপারে গত ১৪ই অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে এবিটিএ (অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন)। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে দায়ের করা হয় সেই মামলা। যদিও সূত্র বলছে, 'গ্রান্টস-ইন-এড'দের মহার্ঘভাতা দেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য। এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাজও শুরু হয়েছে।