কলকাতা, কেয়া মণ্ডল:
মসজিদে লাউডস্পিকার সরানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরির যে চেষ্টা হয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর ‘নিকৃষ্ট প্রচেষ্টা’ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয় থেকে জোর করে লাউডস্পিকার সরানোর অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল, কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তা খারিজ করেছে। তাঁর মতে, এই রায় রাজ্যে শান্তি, আশা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের বার্তা বহন করছে।
ঘটনার সূত্রপাত মসজিদে মাইক ব্যবহার নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, পুলিশ প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন মসজিদ কমিটিকে মৌখিকভাবে লাউডস্পিকার খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কোথাও কোথাও পুলিশ গিয়ে মাইক খুলে দিয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এরপর বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।
মামলাটির শুনানি হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আদালত রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছে তথ্য জানতে চায়। মঙ্গলবার রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। তিনি জানান, পুলিশ প্রশাসনের তরফে এমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। নির্দেশ দেওয়া হলেও তা ছিল মৌখিক।
মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে রাজ্য। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, পুলিশের মৌখিক নির্দেশ এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা চলছে। প্রায় চার হাজার মসজিদের আপত্তির কথা বলা হলেও তাঁদের অধিকাংশকে মামলায় পক্ষ করা হয়নি। ফলে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এরপরই মামলাটি খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
অন্যদিকে, মসজিদের হয়ে সওয়াল করা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্দিষ্ট শব্দসীমা মেনে মাইকে আজান দেওয়া যাবে। যেসব মসজিদ থেকে মাইক খোলা হয়েছিল, তারা ফের মাইক লাগাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।