নিউজ ডেস্ক: বোল্ড চরিত্র ও ব্যতিক্রমী অভিনয়ের জন্য সবসময়ই প্রশংসিত অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। কিন্তু পর্দায় সাহসী হওয়া আর সস্তায় নিজেকে অনাবৃত করা এই দুটোর ফারাক যে আকাশ-পাতাল, সেটাই এবার অকপটে স্পষ্ট করলেন রাধিকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের চরম অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা ও কুরুচিকর মানসিকতা নিয়ে মুখ খুললেন রাধিকা।
রাধিকার বক্তব্য অনুযায়ী, কেরিয়ারের প্রথম দিকে পরপর চার-পাঁচটি ছবিতে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করার পর ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের মধ্যে তাঁকে নিয়ে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, ‘এ তো অনায়াসে জামাকাপড় খুলে ফেলবে (ইয়ে তো কর লেগি না)। ইম্প্রোভাইজ করার নামে ১৫ সেকেন্ডের কিসিং সিন!’
রাধিকা জানান, এমনই একটি ঘটনার সময় তাঁকে প্রথমে শার্টের বোতাম না লাগিয়ে অ্যাকশন দৃশ্য করার কথা বলা হয়। তিনি এতে রাজি হননি। তাঁর যুক্তি ছিল, ‘দৃশ্যটিতে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে এবং শার্টের বোতাম নিজেই খুলে যাবে। আগে থেকে তা খোলা থাকলে সেটি স্বাভাবিক দেখাবে না।’
অভিনেত্রীর দাবি, তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও তাঁকে বারবার শুধু ব্রা ও অন্তর্বাস পরে অ্যাকশন দৃশ্য করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন রাধিকা এবং সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
২০১৬ সালে ‘পার্চড’ (Parched) ছবির নগ্ন দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নিয়েও কথা বলেন রাধিকা। ছবির কন্টেন্ট বাদ দিয়ে সংবাদমাধ্যম ও নেটপাড়া যেভাবে শুধু সেই দৃশ্যটি নিয়ে তোলপাড় করেছিল, তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও রাধিকা জানান, তিনি জানেন তিনি কী কাজ করেছেন। অনাবশ্যক নগ্নতা বা অন-স্ক্রিন সেনসেশনালিজমের নামে যে অভিনেত্রীদের শোষণের চেষ্টা চলে রাধিকার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ফের সেই অন্ধকার দিকটাই সামনে এনে দিল!
ঘটনাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মূলত কোনও চরিত্র বা দৃশ্যের প্রয়োজনের বাইরে তাঁর অপ্রয়োজনীয়ভাবে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার কথাই জানিয়েছেন রাধিকা। একটি চরিত্রের প্রয়োজনে কোনও দৃশ্যে অভিনয় করা মানেই পরবর্তী প্রতিটি ছবিতে একই ধরনের অনাব্যশক প্রস্তাব মেনে নেওয়া নয় এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।